টি২০ বিশ্বকাপে সেই ভারত বধের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ইংল্যান্ডকে ১০ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেই একই ছবি ফিরল করাচিতে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারালেন সেই বাবর আজম-মহম্মদ রিজওয়ান জুটি। দীর্ঘ দিন পরে পাকিস্তানের দুই ওপেনার নিজেদের ছন্দে খেললেন। তাঁদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উড়ে দেল ইংল্যান্ডের বোলিং। শতরান করলেন পাক অধিনায়ক বাবর। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের একটাও উইকেট পড়ল না। ১০ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরালেন বাবররা।

করাচির উইকেটে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মইন আলি। শুরুটা ভালই করেন দুই ওপেনার ফিলিপ সল্ট ও অ্যালেক্স হেলস। পাওয়ার প্লে-তে রান উঠছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে হেলসকে আউট করে ইংল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন শাহনওয়াজ দাহানি। রান পাননি দাউইদ মালান। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটের জন্য সল্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বেন ডাকেট। ৩০ রান করে হ্যারিস রউফের বলে আউট হন সল্ট। পরের ওভারেই ডাকেটের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মইন। ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন হ্যারি ব্রুক। তিনি ৩১ রান করেন।

শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলারদের সঙ্গে ছেলেখেলা করেন মইন। ইনিংসের শেষ দুই বলে দু’টি ছক্কা মেরে দলের রানকে ২০০-র কাছে নিয়ে যান তিনি। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন মইন।

দেখে মনে হচ্ছিল, এই রান তাড়া করতে সমস্যায় পড়তে হবে পাকিস্তানকে। কিন্তু কোথায় কী? দুই ওপেনার বাবর ও রিজওয়ান প্রথম বল থেকেই বুঝিয়ে দেন, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবেন তাঁরা। পাওয়ার প্লে-তে ৫৯ রান তোলেন তাঁরা। প্রতি ওভারে বড় শট খেলছিলেন দুই ব্যাটার।

তার মাঝেই রিজওয়ানকে আউট করার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাঁর ক্যাচ ফস্কান ইংল্যান্ডের সল্ট। তার সুবিধা নেন রিজওয়ান। আরও হাত খুলে খেলা শুরু করেন তিনি। অর্ধশতরান করেন তিনি। পিছিয়ে থাকেননি বাবরও। এশিয়া কাপে তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচে নিজের পুরনো রূপে ফিরলেন পাক অধিনায়ক। তিনিও অর্ধশতরান করেন। দু’জনের মধ্যে শতরানের জুটি হয়।

খেলা যত এগোচ্ছিল তত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন বাবর-রিজওয়ান জুটি। তাঁদের সমস্যায় ফেলতে পারেননি ইংল্যান্ডের কোনও বোলার। মাঠে শিশির পড়ায় বল করতে সমস্যা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের স্পিনারদের। তার ফায়দা নেন দুই পাক ব্যাটার।

একটার পর একটা বল বাউন্ডারিতে গিয়ে পড়ছিল আর আনন্দে উদ্বেল হচ্ছিল করাচির গ্যালারি। মাত্র ৬১ বলে শতরান করেন বাবর। তাঁর রানে ফেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে পাকিস্তানকে। অন্য দিকে রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন ৮৮ রানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.