একটি গোপন বক্তৃতা, ‘Secret Speech’।
কোনো সাংবাদিক বা বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু এই বক্তৃতা দেওয়ার সময় যতটা গোপনীয়তা রাখা হয়েছিল, ততটাই বা ততোধিক চেষ্টা ছিল এই বক্তৃতা কে ছড়িয়ে দেওয়ার।
এই ‘Secret Speech’ সম্পর্কে যখন লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ বন্দী জানতে পারলো তারা নতুন জীবনের আশা করতে শুরু করলো — এ যেন নতুন সূর্যোদয়।
শুধু সেই দেশ নয় , এমনকি সারা পৃথিবী নৃশংসতার কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার সূচনা হয়েছিল এই বক্তৃতার পর থেকে।
যদি বক্তার স্মৃতিচারণ কে তার সততা হিসেবে বিশ্বাস করা যায়, তাহলে বলা যায় কমপক্ষে ২০ বছর এই কথাগুলো বলবার জন্য অপেক্ষা করেছেন এই ‘Secret Speech’ দেওয়ার প্রয়োজনীয় সাহস ও সঠিক সুযোগ অর্জনের জন্য।
আজ সেই দিন।
১৯৫৬ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারি।
এই ‘Secret Speech’ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে ‘On the Cult of Personality and its Consequences’ নামে।
বক্তা, নিকিতা ক্রুশ্চেভ (Nikita Khrushchev) , কমিউনিস্ট পার্টি অফ সোভিয়েত ইউনিয়নের ফার্স্ট সেক্রেটারি।
কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস ২৪ শে ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হওয়ার কথা কিন্তু প্রতিনিধিদের কাছে খবর এলো ক্রেমলিনের বিখ্যাত সভাকক্ষে, বিশেষ একটি সভা হবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরের কোনো সহযোগী দলের প্রতিনিধি, কোনো সাংবাদিক থাকতে পারবেন না; যারা থাকতে পারবেন তাদের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলো আর অনুমতি পেলেন সদ্য সোভিয়েত বন্দী শিবির থেকে মুক্তি পাওয়া ১০০ জন প্রাক্তন পার্টির সদস্য।
২৫ শে ফেব্রুয়ারির মধ্যরাত্রিতে ক্রুশ্চেভ বলতে শুরু করেন আর পরবর্তী ৪ ঘন্টা সেই সত্যটাকে উদঘাটন করেন যার জন্য সোভিয়েত রাশিয়া আর স্তালিনের আমলের সোভিয়েত রাশিয়া থাকবে না।
এই বক্তৃতা যারা শুনছিলেন তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, এমনকি ‘Kremlin Hall’ থেকে তাদের বের করতে হয়। প্রত্যেকেই হতবাক কারণ ক্রুশ্চেভ যা বলে চলেছেন তা বলা কেনো ভাবার সাহস পর্যন্ত ছিল না ১৯৫৩ সালের ৫ই মার্চের আগে — ঐদিন সোভিয়েত রাশিয়ার একনায়ক স্তালিনের মৃত্যু হয়েছিল।
ক্রুশ্চেভ যা বলছিলেন তার প্রস্তুতি শুরু ১৯৫৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে ‘Pospelov Commission’ তৈরির মাধ্যমে। যার উদ্দেশ্য ১৯৩৪ সালে অনুষ্ঠিত’All Union Communist Party (Bolshevik)’ এর ১৭তম কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের উপর করা স্তালিনের অত্যাচারের তদন্ত। ১৯৩৪ সালের সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের বলা হতো ‘the Congress of Victors’ কারণ তারাই সোভিয়েত রাশিয়ায় সোশ্যালিজমের ভীত মজবুত করেছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসলো কী ? ১৯৩৭-৩৮ সালে স্তালিনের ‘The Great Purge’ বা শুদ্ধিকরণ অভিযানে ১৯৩৪ সালের প্রতিনিধিদলের ১৯৬৬ জনের মধ্যে ১১০৮ জনকে ‘প্রতিবিপ্লবী’ ( বিপ্লবের বিরোধী) হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, ৮৪৮ জনকে হত্যা করা হয়েছিল আর কেন্দ্রীয় কমিটির ১৩৯ জন সদস্যের মধ্যে ৯৮ জনকে ‘গণশত্রু’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। আর এইসব অভিযুক্তদের বিচার একটাই — গুলি করে হত্যা। এরা সবাই সেই মহান কমিউনিজমের ধ্বজবাহক ছিলেন। স্তালিনের ‘পার্জ ‘ চলাকালীন প্রায় ১০ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ কে গ্ৰেফতার করা হয় আর প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার ৫০০ জন কে হত্যা করা হয় সোভিয়েত রাশিয়া বিরোধী কাজের জন্য! এদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য!
পসপেলভ কমিশনের (Pospelov Commission) এই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ক্রুশ্চেভ সিদ্ধান্ত নেন এই সত্যকে সামনে আনার আর ১৩ থেকে ২৫ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্রুশ্চেভ, পসপেলভ, এরিস্টভ আর পার্টির অন্যান্য সদস্যরা এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন – বিয়োজন করেন।
‘On the Cult of Personality and its Consequences’ – এ ক্রুশ্চেভ স্তালিনের একনায়কতন্ত্রের নিন্দা করে স্তালিনের আমলের নৃশংসতা তথ্য দিয়ে তুলে ধরেন। কিন্তু ক্রুশ্চেভ ‘হলোডোমোর’ , কুলাকদের গণহত্যা নিয়ে চুপ ছিলেন এই বক্তব্যে। শুধুমাত্র স্তালিনের একক সিদ্ধান্তের ফলে পার্টির সদস্যদের উপর যে নৃশংস অত্যাচার করা হয়েছিল সেগুলোই শুধু বলা হয়েছিল — উদ্দেশ্য ছিল পার্টিতন্ত্রে ব্যক্তিপূজা কে বিলুপ্ত করা বা এমনও হতে পারে স্তালিনের আমলে পার্টির সদস্যদের মধ্যেই যে জীবনের ভীতি সবসময়ই থাকতো তা থেকে তাদের মুক্ত করে জনপ্রিয় হওয়া যা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটা আবশ্যিক শর্ত। ক্রুশ্চেভের প্রতি সন্দেহ এই কারণেই জাগে যে ‘পার্জ’ চলাকালীন স্তালিনের নির্দেশ অনুযায়ী সে এই হত্যালীলা কে কার্যকর করতে নিজেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল — তা ইচ্ছাকৃত না দায়ে পড়ে তার বিশ্লেষণ হতে পারে।
ক্রুশ্চেভের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেনো এই ‘ Secret Speech’ সারা বিশ্বের কাছে সোভিয়েত রাশিয়া তথা কমিউনিজমের নৃশংসতার একটা বড় লিপিবদ্ধ প্রমাণ আর কমিউনিস্ট শাসনামলে একজন কমিউনিস্ট শাসকের স্বীকৃত প্রমাণ যা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।
১লা মার্চ থেকে এই ‘Secret Speech’ প্রিন্ট করে পার্টির সমস্ত সভায় পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এইভাবেই প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের কাছে এই বক্তব্য খুব অল্প সময়ে পৌঁছে যায়। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়ায় কমিউনিজমের শেষের দিনগুলোতে সোভিয়েত প্রেস থেকে এই বক্তব্য অফিসিয়ালি প্রকাশিত হয়। সোভিয়েত রাশিয়ার চিরদিনের শত্রু পোলিশ সরকার এই বক্তব্য কে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, রেডিও তে সম্প্রচার করে। ১৯৫৬ সালের ৫ই জুন নিউইয়র্ক টাইমস এই বক্তব্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। সারা বিশ্বে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়, হাঙ্গেরিতে স্তালিনের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়। সোভিয়েত রাশিয়ার দমনমূলক ‘গুলাগ’ শ্রমশিবির থেকে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়।
পাশের দেশ চীনে তখন কমিউনিস্ট স্বৈরাচারী মাও সেতুং এর শাসন — সে পার্টির সর্বোচ্চ নেতা। মাও এই ‘de-Stalinization’ এর ঘোরতর বিরোধ করলো , ক্রুশ্চেভ কে সংস্কারবাদী হিসেবে নিন্দা করা হলো , সোভিয়েত – চীনের সম্পর্কে চিড় ধরলো। নিজের একনায়কত্ব মজবুত করার চেষ্টায় রত হলো মাও , এক নতুন ফাঁদ পাতা হলো । চীনে প্রথমে সমালোচকদের উৎসাহ দিতে ‘Hundred flowers bloom’ নামে ক্যাম্পেইন চালিয়ে তাদের মতপ্রকাশে উৎসাহ দেওয়া হয় আর তারপরেই ১৯৫৭ সালে সমালোচকদের উপর নেমে আসে অত্যাচার, যেন স্তালিনের পার্জের চীনা-ভার্সন। এরপরেই চীনের ইতিহাসের নৃশংসতম কালো অধ্যায়ের সূচনা হয় ‘The Great Leap Forward’ আর ‘Cultural Revolution’ এর নামে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানব নির্মিত দুর্ভিক্ষে কয়েক কোটি মানুষ মারা যায়। একদিকে যখন সোভিয়েত রাশিয়া কমিউনিজমের স্তালিনীয় প্রয়োগ থেকে বেরোতে চাইছে ঠিক তখনই চীন মাও এর নেতৃত্বে কমিউনিজমে অন্ধকারে ঢুকছে। ফল দুই ক্ষেত্রেই এক। গণহত্যা, দুর্ভিক্ষ, পার্টি কর্মীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, বিশ্বাসহীনতা, দেশের সংস্কৃতি – ঐতিহ্যের বিপর্যয়।
স্তালিনের মৃত্যুর পরে পরেই ক্ষমতার লড়াই প্রকট হয়ে ওঠে। স্তালিনের হত্যালীলায় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল NKVD-এর প্রধান ল্যাভরেন্টি বেরিয়ার (Lavrentiy Beria)। ক্রুশ্চেভ জানতো আগে বেরিয়া কে বাগে আনতে হবে নাহলে স্তালিনের মৃত্যুর পরেও পার্টির নেতৃত্ব থেকে দেশের সাধারণ মানুষ, কারোরই জীবনের প্রতি মুহূর্তের অনিশ্চয়তা কাটবে না। সেনাবাহিনীর প্রধান জর্জি ঝুকভ কে নিজের সমর্থনে এনে বেরিয়া কে গ্ৰেফতার আর তারপর গোপন বিচার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এইভাবেই হঠাৎ অভিযুক্ত করা আর তারপর গোপন বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া — এই খেলা ক্রুশ্চেভ দীর্ঘকাল দেখেছেন, এমনকি বেরিয়া কে সঙ্গে নিয়ে এই খেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছেন। তাই সবার কাছে বিপদজনক বেরিয়া কে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা স্তালিনের মৃত্যুর পর থেকেই করেছেন। মালেনকভ, মলোটভদের মতো পুরোনো নেতাদের সরিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন ক্রুশ্চেভ পরবর্তীতে কিন্তু স্তালিনের মতো মৃত্যুদণ্ড দেন নি। পুরোনো নেতাদের বিচারের নামে হত্যা না করা থেকেই বোঝা যায় ক্রুশ্চেভের ‘Secret Speech’ সত্যিই স্তালিনের পথ থেকে সোভিয়েত রাশিয়া কে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা ছিল। সেই চেষ্টা যে সফল হয়েছিল তার প্রমাণ ক্রুশ্চেভ নিজে। যখন ক্রুশ্চেভের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় আর ১৯৬৪ সালে ক্রুশ্চেভ কে সরতে হয় , তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নির্বাসিত করা হয়েছিল। ক্রুশ্চেভ কে প্রচার মাধ্যম থেকে দূরে রাখা হয় কিন্তু তার গোপন কথা রেকর্ড করে KGB এর চোখে ধুলো দিয়ে দেশের বাইরে পাঠান ক্রুশ্চেভ। সেই স্মৃতিচারণ থেকে পার্জের সময়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জীবন কিরকম অনিশ্চিত ছিল, কিভাবে স্তালিনের মনে হওয়া সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের জীবনের ইতি হতো তার প্রচুর ঘটনা জানা যায় । ক্রুশ্চেভের স্মৃতিচারণ ‘Khrushchev Remembers’ এর ‘The Terror’ অধ্যায়ের একটি অংশ থেকে কমিউনিস্টদের আরাধ্য স্তালিনের চরিত্র আর কমিউনিস্ট শাসন সম্পর্কে ধারণা করা যায় —-
“পরে, সেন্ট্রাল কমিটির একদিনব্যাপী বৈঠক শেষ হওয়ার পর সবাই রাতের খাবারের জন্য ছড়িয়ে পড়ল। আমি কিছুক্ষণ সেখানে থেকে গেলাম। যখন আমি উঠছিলাম যাওয়ার জন্য, হঠাৎ জোসেফ স্টালিন আমাকে চিৎকার করে বললেন, “ক্রুশ্চেভ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?”
আমি বললাম, “আমি রাতের খাবার খেতে যাচ্ছি।”
“আমার সঙ্গে চলো। আমরা একসাথে খাব।”
আমি মনে মনে ভাবলাম, “তিনি আমাকে হঠাৎ করে কেন তাঁর সঙ্গে খেতে ডাকছেন?” আমরা যখন বের হচ্ছিলাম, তখন ইয়াকভ আরকাদিয়েভিচ ইয়াকোভলেভ, যিনি কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছিলেন, তিনি বিনা নিমন্ত্রণে স্টালিনের সঙ্গে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে চলে এলেন। আমরা তিনজন একসাথে রাতের খাবার খেলাম। বেশিরভাগ সময় স্টালিনই কথা বলছিলেন।
এপস্টাইন-ইয়াকোভলেভ খুবই অস্থির অবস্থায় ছিলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে তাঁকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে। তাঁর এই আশঙ্কা ভুল ছিল না। স্টালিনের সঙ্গে এই বন্ধুত্বপূর্ণ রাতের খাবারের কিছুদিন পরেই ইয়াকোভলেভকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আমি এই ঘটনাটি বলছি এটা বোঝানোর জন্য যে, স্টালিনের এত ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ—যেমন ইয়াকোভলেভ, যিনি সেন্ট্রাল কমিটির কৃষি বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্টালিনের অন্যতম বিশ্বস্ত সমর্থক ছিলেন—তাঁর জীবনও হঠাৎ করে এক সূতোয় ঝুলে যেতে পারত।
এই ঘটনাটি স্টালিনের বিশ্বাসঘাতক স্বভাবের একটি উদাহরণ।”
নিজের ‘Secret Speech’ এ যেভাবে স্তালিনের পাশবিকতা আর বিশ্বাসঘাতকতা তুলে ধরেছিলেন ক্রুশ্চেভ, নিজের নির্বাসিত জীবনেও সেই জায়গায় ছিলেন।
সমস্যা শুধু স্তালিনের একনায়কতন্ত্রে ছিল না, ছিল কমিউনিজমের মূলেই। তা নাহলে ক্রুশ্চেভ কে কেনো এইভাবে সরতে হবে? কেনো ক্ষমতার শীর্ষে উঠতে বিশ্বাসঘাতকতা আর ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতে হবে? স্তালিনের পথ থেকে সোভিয়েত রাশিয়াকে সরাতে গিয়ে ক্রুশ্চেভ নিজেও কি ষড়যন্ত্র করেন নি? পৃথিবীর সর্বত্র কমিউনিজমের একই চিত্র! কিন্তু ক্রুশ্চেভ পৃথিবীকে যা দিয়ে গেলেন তা হলো স্তালিনের নৃশংসতার প্রমাণ যার ফলে ‘Secret Speech’ এর পরবর্তী পৃথিবী সেই গণহত্যাকারীর ব্যক্তি পূজা থেকে বের হওয়ার রসদ পেয়েছে।
ভাবতেও অবাক লাগে ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশেও সেই গণহত্যাকারীকে সামনে রেখেও রাজনীতি করা যায় !
এর কারণ বোধ হয় ‘ইতিহাস জ্ঞান’ , যার অভাবে ক্রুশ্চেভের ‘Secret Speech’ আজও ‘Secret’ হয়েই আছে!!
পিন্টু সান্যাল


