কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে এবার উদ্ধার হলো বড় দা এবং ছুরি। এর আগে এই কলেজের ছাত্র সংসদের (ইউনিয়ন রুম) কার্যালয়ের আলমারি থেকে সুটকেস ভর্তি উইপোকায় খাওয়া টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ইউনিয়ন রুমে টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার: কী ঘটেছিল?
দিনকয়েক আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যাগের ভেতরের বান্ডিল বান্ডিল টাকা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় উইপোকায় নষ্ট করে ফেলেছিল। খবর পেয়েই মুচিপাড়া থানার পুলিশ কলেজে পৌঁছায়।
টাকা উদ্ধারের পর ওই ইউনিয়ন রুম থেকেই একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় মুচিপাড়া থানায় দুই তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিতোষ দত্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত পরিতোষ দত্তকে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চুরির নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার ‘ভর্তি দুর্নীতি’?
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের এই বিপুল পরিমাণ টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, কলেজে ছাত্র ভর্তির বিনিময়ে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন এবং এই টাকা তারই অংশ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র সংসদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর সেই চিঠির পরই কলেজ থেকে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। সজল ঘোষের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত টাকাই আদতে দুর্নীতির টাকা।
উইপোকায় খাওয়া টাকা এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ধৃত পরিতোষকে জেরা করে পুলিশ যখন এই ঘটনার উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নতুন করে বড় দা এবং ছুরি উদ্ধারের ঘটনা মুচিপাড়া থানার পুলিশকে আরও ভাবিয়ে তুলেছে। এই অস্ত্রগুলি কী উদ্দেশ্যে এবং কারা কলেজের ইউনিয়ন রুমে মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

