সারা দেশ যখন ৩৬৫ দিনের কাজের জন্য দৌড়াচ্ছে, আমরা ১০০ দিনের কাজের জন্য কাঁদছি

সারা দেশ যখন ৩৬৫ দিনের কাজের জন্য দৌড়াচ্ছে, আমরা ১০০ দিনের কাজের জন্য কাঁদছি

একটা গ্রামে কেউ রান্নার কাজ শেখে, কেউ ফিটার, কেউ ছুতোর, কেউ কামার l কিন্তু সবাইকে প্রশিক্ষণ শেষে বলা হল কামারের কাজ করতে l বলা হল বাকী সব কাজ/পরিষেবা পাশের গ্রাম থেকে নেয়া হবে l কি হবে বাকীদের? সহজেই অনুমেয় l আয় কমবে, অসাম্য বাড়বে, গ্রামের সম্পদ পাশের গ্রামে চলে যাবে l

এই অবস্থায় মোদীজি দেশের দায়িত্ব নেন ২০১৪ তে l দেশে শুধু পরিষেবার কাজ অর্থাৎ IT আছে l খাওয়ার তেল, টিভি, মোবাইল, পুতুল সব বিদেশ থেকে আসে l ইংরেজী জানলে মাসে ২ লক্ষ, না জানলে ১০০ দিনের কাজ l ৬০% ভোজ্য তেল সবুজ বিপ্লবের ৫০ বছর পরেও আমদানি করতে হয় l যাদবপুর বা JNU এর ছাত্ররা পাশ করে বিদেশে যায়, অথচ মছলন্দপুরের চাষীর অধিকার নেই তার সবজি পাটনায় বেচার বা সরাসরি ম্যাকডোনাল্ডকে বেচার l প্রস্তাব দিলে আন্দোলনে নামবে সেই যাদবপুর, JNU এর ছাত্ররাই l দেশে দুই ডজন অপ্রত্যক্ষ কর l মুম্বাই থেকে সিঙ্গাপুর ব্যবসা করা সহজ, কলকাতায় ব্যবসা করা কঠিন l তার উপর প্রতিবেশী দেশ টাকা ছাপিয়ে আমাদের উগ্রপন্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে আমাদের সম্পদ ব্যাবহারের জন্য l ব্যাংক জাতীয়করণের ৪৫ বছর পর দেশের ৫০% মানুষ ব্যাংকে খাতা খোলে নি l বীমা কি জিনিস দেশের মানুষ জানতো না l আর সরকারি ব্যাংকের হাতে কোন আইন ছিল না বড় ব্যাবসায়ীদের থেকে টাকা আদায় করার জন্য l কে এখানে উৎপাদন করবে?

মোদীজি শুরু করলেন সংস্কার l জনধন, বীমা, দুর্ঘটনা বীমা, চিকিৎসা বীমা, নোটবন্দি, IBC, RERA, GST, UPI, রূপে, শ্রমিক বিল কোডসহ ৭০০০ সংস্কার আনলেন সিস্টেমে l আর প্রতিটি সংস্কারের সঙ্গে গালি দেয়া শুরু করলো মিডিয়া, খান মার্কেট গ্যাং, JNU থেকে কলকাতার প্রেস l

শুরু হল ম্যানুফ্যাক্টয়ারিং l কৃষি বিল ফেরৎ নিতে হলেও সরকার চাষীদের স্বাধীনতা দিতে বধ্যপরিকর l কিন্তু দেশ পাল্টেছে l ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর পঞ্চম অর্থব্যাবস্থা ভারত l বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থার মতে আগামী ৪ বছরে জাপান এবং জার্মানিকে ছাড়িয়ে তিননাম্বারে পৌঁছাবে ভারত l মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে l গত বছর জিডিপির ৬০% এসেছে এর থেকেই l GST বেড়েছে ১৫% l মানুষ ১০০ দিনের কাজ ছেড়ে স্বনিযুক্তি প্রকল্প শুরু করছে l ৩১ কোটি মুদ্রা লোনের মধ্যে মাত্র ৭% মানুষ NPA র আওতায় l অর্থাৎ ৯৩% মানুষ সফল l আট বছরে EPF এ নথিভুক্ত হয়েছে ১৩ কোটি মানুষ l অর্থাৎ গত আট বছরে ফরমাল সেক্টর এ ১৩ কোটি মানুষ কাজ পেয়েছে l দেশ রপ্তানি করছে মহাকাশ, প্রতিরক্ষা সরাঞ্জাম থেকে ইলেকট্রিক গাড়ী l পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড করছে দেশ l পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের জেনেরিক অসুধ পাঠাচ্ছে ভারত l ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান একে তুলনা করেছেন ভগবান হনুমানের বিশল্যকরনীর সঙ্গে l

আবার শুরু করি ২০১৪ থেকে l মোদীজি যখন ক্ষমতায় আসেন, সারা ভারত দৌড়াচ্ছিল শুধু ইংরেজী শিখতে l বাবা মা আয়ের বড় অংশ খরচ করছিলেন বেসরকারি স্কুলে l কারণ ইংরেজী শিখলে IT তে চাকরি পাওয়া যাবে l শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক l ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার বা আইনের ছাত্র l না জানলে ১০০ দিনের কাজ l সে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার হোক বা ইতিহাস স্নাতক l

আর ২০২২? পরিস্থিতি আমূল পাল্টেছে l ব্রিটেনের সংসদে ব্রিটিশ সাংসদ গ্যারিথ থমাস বললেন, তাঁদের ভারতীয় ভাষা শিখতে হবে l কারণ ভারতই গন্তব্য l এটাই নতুন ভারত l

তবে একটা রাজ্যে এর কোন প্রভাব পড়ে নি l আমাদের পশ্চিমবঙ্গ l এখনো আমরা ১০০ দিনের কাজের জন্য কান্নাকাটি করি l গুজরাট মহারাষ্ট্রসহ পুরো দক্ষিণ ভারতে গাড়ী চালিয়ে বা রান্না করে ১০০ দিনের কাজের আড়াই থেকে তিনগুন আয় করে মানুষ l ওখানে টাকা ফেরৎ যাচ্ছে l আমাদের রাজ্যে ৫০০০ টাকার চাকরি দিলে ১০০০ স্নাতক কাজের জন্য দরখাস্ত করে l এখানে ১০০ দিনের কাজ দরকার l সারা দেশ যখন ৩৬৫ দিনের কাজের জন্য দৌড়াচ্ছে, আমরা ১০০ দিনের কাজের জন্য কাঁদছি l

সুদীপ্ত গুহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.