সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে  একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহের কাছে

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহের কাছে

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে প্রায় এক মাস ৷ এই সময়ের মধ্যে বিজেপির অন্দরে ও বাইরে বারবার আলোচনায় এসেছে ভোটে দলের ভরাডুবির সম্ভাব্য কারণগুলি ৷ কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে এই নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহের কাছে ৷ যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ৷

স্বাভাবিক ভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে যে এমন কী রয়েছে ওই রিপোর্টে, যা নিয়ে বঙ্গ-বিজেপির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে ৷ এমনকী, দলের দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে এ নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়িও শুরু হয়েছে বলে বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে ৷ যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও নেতাই মুখ খুলতে চাইছেন না ৷ তবে গেরুয়া শিবিরের একটি সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে একাধিক বিস্ফোরক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ৷ দলের একাধিক শীর্ষনেতার নাম উল্লেখ করে হারের কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে ৷

বিজেপির ওই সূত্র জানাচ্ছে যে 280 পাতার ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে দলবদলুদের প্রসঙ্গ ৷ অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে যাঁরা এবার পদ্ম-প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশকেই দুর্নীতিগ্রস্ত ও জনপ্রিয়তাহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে । সেই কারণেই মানুষ ওই নেতাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ৷ যা বিজেপির হারের অন্যতম কারণ বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে ৷এমনকী, বিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে অমিত শাহের কাছে জমা পড়া ওই রিপোর্টে ৷

ভোটের প্রচার-কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওই রিপোর্টে ৷ আর সেগুলি হল, প্রার্থীরা প্রচারে নির্বাচনী তহবিলের অর্থ ঠিকভাবে খরচ করেননি ৷ কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার বাংলায় আসায় রাজ্য নেতাদের গুরুত্ব কমেছে ৷ তা নিচুতলার কর্মীরা ভালোভাবে নেননি ৷ প্রচারে লোক টানতে সেলিব্রিটিদের হাজির করানো হয়েছিল ৷ সেখানে ভিড় হলেও ভোটে তার ফল পাওয়া যায়নি ৷ অবাঙালি নেতাদের প্রচারে নামানো হয়েছিল ৷ কিন্তু মানুষ সভায় হাজির হয়েও তাঁদের কথা বুঝতে পারেননি ৷তাছাড়া জেলাস্তরের নেতাদের একাংশের বিলাসবহুল জীবনযাপনও মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি ৷ এর সঙ্গেই দলের রাজ্যস্তরের 30 জন শীর্ষনেতার জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই রিপোর্টে ৷ সেই তালিকায় তৃণমূল থেকে আসা দুই নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৷ সেই দুই নেতার একজন আবার ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ৷ পাশাপাশি রিপোর্টে আরএসএস ভোটের সময় নিষ্ক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে ৷ এমনকী, কোথাও কোথাও আরএসএসের সঙ্গে বিজেপির নেতাদের সরাসরি সংঘাত হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে ৷ভোটে হারের কারণ যেমন ওই রিপোর্টে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তেমনই আগামিদিন নিয়েও কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ৷ তার মধ্যে অন্যতম হল দলে ভাঙন ৷ বিজেপির বিধায়কদের একাংশ তৃণমূলে যোগ দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে ওই রিপোর্টে ৷আর এই বিষয়টি সামনে আসার পরই দলের নেতৃত্ব দুই ভাগে ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে বলে খবর ৷ বিজেপি সূত্রের দাবি, একটি দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে ৷ অন্য একটি পক্ষ আবার দিলীপ ঘোষকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছে ৷ এমনকী, প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও দিলীপ ঘোষের মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ৷ তাই রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ ভোটে হারের দায় কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপিয়েছেন ৷সম্প্রতি বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দলের ভরাডুবির জন্য মুখ খুলেছিলেন । তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের জন্যই এই পরাজয় বলে অভিযোগ করেছিলেন ৷এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “দলের পরাজয় নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা পেয়েছি । তবে বিজেপির ভরাডুবির জন্য একটা বা দুটো কারণ থাকতে পারে না । এই হারের জন্য একাধিক কারণ আছে । দল সব বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা করছে । হারের কারণগুলিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে । যাতে পরবর্তী নির্বাচনে দল এই বিষয়গুলি থেকে শিক্ষা নিতে পারে ৷”

তথ্য : https://react.etvbharat.com/bengali/west-bengal/city/kolkata/report-of-bjp-poll-debacle-in-bengal-submitted-to-amit-shah-by-a-intelligence-agency/wb20210531195449156

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.