কবিগুরুর দৃষ্টিতে ইতিহাস-চর্চা

মামুদের আক্রমণ হইতে লড্‌ কার্জনের সাম্রাজ্যগর্বোদ্‌গার-কাল পর্যন্ত যে-কিছু ইতিহাসকথা তাহা ভারতবর্ষের পক্ষে বিচিত্র কুহেলিকা; তাহা স্বদেশ সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টির সহায়তা করে না, দৃষ্টি আবৃত করে মাত্র। তাহা এমন স্থানে কৃত্রিম আলোক ফেলে, যাহাতে আমাদের দেশের দিকটাই আমাদের চোখে অন্ধকার হইয়া যায়। সেই অন্ধকারের মধ্যে নবাবের বিলাসশালার দীপালোকে নর্তকীর মণিভূষণ জ্বলিয়াRead More →

দূরত্ব

“ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কী সঙ্গীত ভেসে আসে…” কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকরা মহাসাগরের সুদূরতম প্রান্ত থেকে আগত ক্ষীণতম শব্দও হয়ত শুনতে পান।পৃথিবী-সহ সৌর জগতের অন্যান্য গ্রহগুলি যখন সূর্য দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে,বাষ্পাকারে মহাশূন্যে পরিভ্রমণ করছিল,যখন গ্রহগুলি তাদের নিজস্ব আকার-আকৃতিও নিতে পারে নি,সেই সময়কার ক্রন্দন ধ্বনিও আজ বিজ্ঞানীরা শুনতে পারছেন।প্রাগ্রসর দেশগুলির ব্রম্ভাণ্ড অন্বেষী সংস্থাRead More →

বিশ্ব মাতৃদিবস (৮ ই মে, ২০২২) উপলক্ষে মাতৃবন্দনা করে পিতা-মাতার প্রতি সেবাকর্মের বিষয়টি তুলে ধরলেন ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।সন্তানের পিতৃ-মাতৃ সেবা।

মাতৃস্নেহের কী কোনো বিকল্প হয়? জগতের এ এক আশ্চর্য মহাভাব। শিশুর যাবতীয় ব্যাধির মহৌষধ মা, যেন অব্যর্থ মকরধ্বজ। “কুপুত্র যদি বা হয় — কুমাতা কখন নয়।” মাতৃত্বের প্রকাশ যত, অপ্রকাশ তার চেয়ে বহু গুণ। শৈশবে আমরা কেবলই মাকে খুঁজি, তার আঁচলে লুকোই। যখন যৌবনের জটিলতায় পা বাড়াই তখন সেই সহজাতRead More →

বৈশাখের শুক্লপক্ষে চন্দন ষষ্ঠী — ব্রত পালিত হত সন্তানকে ধুলোবালি-মুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেবার কামনাতেই।

আজ চন্দন ষষ্ঠী (৭ ই মে, ২০২২)। বাংলার চন্দন-সংস্কৃতির এক অনবদ্য অধ্যায় ( Sandal-lore )। সে শ্বেতচন্দনের কথা, বিজ্ঞানসম্মত নাম Santalum album , Santalaceae পরিবারের গাছ, ইংরেজিতে Sandalwood tree । পেনিসিলিনের মত ওষুধ যখন ছিল না, তখন চন্দন তেল ও তার পাউডার দিয়েই দেহাভ্যন্তরের হরেক রোগের জ্বালাযন্ত্রণা সারাতেন লোক চিকিৎসক।Read More →

অক্ষয় তৃতীয়ার অক্ষয় কাজ কোনটি?

‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন —উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,                       ‘ ভয় নাই, ওরে ভয় নাই —                  নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান                      ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ক্ষয় নেই যে সত্তার সেটাই ‘অক্ষয়’। যার কোনো বিনাশ নেই। ‘অক্ষয় তৃতীয়া’-র দিন আমরা ‘অবিনাশী’ হতে চাই, আমাদের যাবতীয় সম্পদকে অনন্ত অক্ষয় করে তুলতে চাই। কিন্তু ‘চাই’ বললেইRead More →

সাহিত্যিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আইনজ্ঞ নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত (জন্মঃ- ৩ মে, ১৮৮৩ – মৃত্যু- ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪)

প্রথম জীবনে তিনি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং তিনি কংগ্রেস কর্মী হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯২৫-২৬ খ্রিস্টাব্দে নবগঠিত ওয়ার্কাস অ্যান্ড পেজ্যান্টস্ পার্টির প্রেসিডেন্ট হন। পরে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে লেবার পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২১ জুন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যুতে কলকাতায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্ঘের যেRead More →

বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী

শহীদ সুশীল সেন (জন্মঃ- ১৮৯১ – মৃত্যুঃ- ৩০ এপ্রিল, ১৯১৫) (কোলকাতা পুলিশ আর্কাইভ ও সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান অনুযায়ী) ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আবালবৃদ্ধবনিতার সর্বব্যাপী ক্ষোভ বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করছে অত্যাচারী শাসককে সশস্ত্র আক্রমণে। “অনুশীলন সমিতি” এবং “যুগান্তর”-এর মতো গুপ্ত সংগঠনগুলি সক্রিয়তার তুঙ্গে তখন। রাশ টানতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে মরিয়া ব্রিটিশRead More →

পরশুরাম অবতারে শ্রীবিষ্ণু

১.কাশীদাসী মহাভারতের আদিপর্বে বিষ্ণুর পরশুরাম অবতার গ্রহণ সম্পর্কে পর্বাধ্যায় রয়েছে। তা থেকে জানা যায়, পৃথিবীব্যাপী ক্ষত্রিয়গণ কদাচারে মহামত্ত হলে জনার্দন শ্রীবিষ্ণু লোকহিংসা সহ্য করতে পারলেন না।“পৃথিবীর মধ্যে ক্ষত্র হইল অপার।মহামত্ত হৈয়া সবে করে কদাচার।।”সেই প্রেক্ষিতেই ভৃগুবংশে জমদগ্নি কুমাররূপে তাঁর আবির্ভাব হল, পরশুরাম; হাতে কুঠার, বারংবার তিনি পৃথিবীকে নিঃক্ষত্রা করে তাRead More →

ডাঃ হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির : রাষ্ট্রবাদীদের তীর্থক্ষেত্র।

মন্দিরময় ভারতে “ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির” একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।কেন না,এই স্মৃতি মন্দিরটি সাধারণ মন্দিরের চেয়ে আলাদা।ভারতে এবং ভারতের বাইরে যত হিন্দু মন্দির আছে,সেগুলি সবই দেবমন্দির ও অবতার পুরুষদের নামাঙ্কিত মন্দির।সেই অর্থে শ্রী হেডগেওয়ার কোনো অবতার পুরুষ বা সাধু সন্ত নন।তিনি বিশ্বের বৃহত্তম অরাজনৈতিক সেবা ওRead More →

স্বামীজি আদ্যন্ত সাম্যবাদী । সমাজতান্ত্রিক চিন্তাচেতনায় সম্পৃক্ত হওয়ার কারণেই পয়লা মে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু তাত্ত্বিক সমাজতন্ত্রীরা, বামপন্থীরা কি তাঁকে সাম্যবাদী আখ্যা দেন? দিলে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (বিবেকানন্দবাদী) নামে একটা বামদল গড়ে উঠতো। ওঠে নি।

ধর্ম আফিম, তাই ধর্মের সঙ্গে যুক্ত কাউকে বামপন্থীরা মানতে নারাজ। কিন্তু এখানে ‘ধর্ম’ বলতে কেবলমাত্র ‘হিন্দুধর্ম’-ই পড়তে হবে। অন্য ধর্মের নেতাদের জন্য এই নিয়ম নয়। সেখানে শিখধর্মী হরকিষেণ সিং সুরজিৎ সহ বহু মুসলমান নেতাদের নাম একে একে চলে আসবে। কিন্তু হোপ-৮৬ খ্যাত সুভাষ চক্রবর্তী তারাপীঠে গেলেই মস্ত বড় অপরাধ হয়েRead More →