ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও দিল্লির প্রতি কোনো অন্ধ বা বিশেষ পক্ষপাত (‘মুগ্ধতা’) রাখতে নারাজ বাংলাদেশ। রবিবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত তাদের কাছে কেবলই একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র।
সম্প্রতি ব্রিক্সের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে তিনি নিজে বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি ওই সম্মেলনে অংশ নেননি। বাংলাদেশের দাবি, তারেক রহমানকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং সাত দেশের জোট ‘বিম্সটেক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দিল্লি ও ঢাকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ দিন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভারত নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ বা মুগ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসুন। ভারত শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবারের সময়— সব সময় খালি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করলে নিজের দেশের কথা কখন ভাববেন? নিজের দেশের চিন্তা করেন।”
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। ওই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কোনো পার্শ্ববৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, সবার সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকে দেখা করা সবসময় সম্ভব নয়। তবে যেখানে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক আলোচনার প্রয়োজন হবে, সেখানে অবশ্যই তা করবে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তিন দশক পুরোনো এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা নবীকরণে বিশেষ আগ্রহী ঢাকা। এছাড়া সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেকের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকেই দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা ও টানাপড়েন তৈরি হয়। চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে গত আগস্ট মাসে দিল্লিতে হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে পুনরায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়।

