বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ)-এর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার পাড়ুই এলাকায় টুলুর শ্বশুরবাড়িতে এসটিএফ ও বম্ব স্কোয়াডের যৌথ তল্লাশি অভিযানের পর, এবার টুলুর শ্যালক মিন্টু শেখের ঘনিষ্ঠ ম্যানেজার বিকি শেখকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, বিকি শেখ মূলত মিন্টুর পাথর ব্যবসার তদারকি ও দেখাশোনা করতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। মিন্টুর আর্থিক লেনদেন, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা খতিয়ে দেখতেই বিকিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে মিন্টুর নামে ও বেনামে থাকা সম্পত্তি হিসেব করে দেখছে পুলিশ। বিকির থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও এই চক্রের মূল শিকড় অনুসন্ধানের আশা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে পাড়ুইয়ে টুলুর শ্বশুর নুরুল হকের দোতলা বাড়িতে চলে ব্যাপক তল্লাশি। এমনকি বাড়ির শৌচাগারের আশপাশে খোঁড়াখুঁড়িও করা হয়। তবে অভিযান শেষে নুরুল হক দাবি করেন, পুলিশ গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি লন্ডভন্ড করলেও শেষ পর্যন্ত কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। তিনি জানান, ২০১০ সালে ব্যবসার দায়িত্ব দুই ছেলে— নুর আলম (মিন্টু) ও শামসুল আলম (মিঠু)-এর হাতে তুলে দিয়ে তিনি অবসর নেন। মেয়ে ফিরোজা বিবি (মিনা) এবং জামাই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কোনো দীর্ঘদিনের যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
টুলু সংক্রান্ত এই মামলায় মঙ্গলবার পুলিশ নইমুদ্দিন মণ্ডল নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। মহম্মদবাজারের বাসিন্দা নইমুদ্দিন সম্পর্কে টুলুর তুতো ভাই। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, সরাসরি যুক্ত না থাকলেও টুলুর একাধিক বেনামি ব্যবসার অংশীদার ছিলেন তিনি। এই নিয়ে মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, তাঁর ঘনিষ্ঠ মিনার মণ্ডলের বাসভবন থেকে ইতোমধ্যে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি ও অর্থ উদ্ধার সত্ত্বেও মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল এখনো অধরা। এরই মধ্যে আইনজীবী মারফত আইনি নিরাপত্তা ও রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এ সংক্রান্ত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।

