কলকাতার ময়দান বা ঐতিহ্যবাহী কলকাতা ডার্বি, কোনোটিই তাঁর অজানা নয়। মোহনবাগান দলের কোচ হিসেবে ডার্বিতে অপরাজিত থাকার অনবদ্য রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু এবার জার্সি বদলেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ছেড়ে আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এখন ইস্টবেঙ্গলের নতুন কাণ্ডারী। শনিবার ডার্বির মহারণে ইস্টবেঙ্গল ডাগআউটে বসার আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, পুরনো দল নিয়ে আর কোনো নস্ট্যালজিয়া বা বাড়তি আবেগ নেই তাঁর মনে; লক্ষ্য শুধুই ইস্টবেঙ্গলকে জয় এনে দেওয়া।
পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতির অভাব নিয়ে আক্ষেপ
শুক্রবার ডার্বি-পূর্ববর্তী এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাবাস বলেন, “আমি কোনো রকম নস্ট্যালজিয়ায় ভুগছি না। মোহনবাগান ভালো দল এবং ওদের কোচও ভালো। কিন্তু এখন আমার সমস্ত চিন্তাভাবনা শুধুই ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে। দলকে জেতানোর জন্যই আমি শনিবার মাঠে নামব।” মোহনবাগান সমর্থকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “কলকাতায় আমি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। মোহনবাগান এখন অতীত। ওদের নিয়ে নতুন করে ভাবার কিছু নেই, তবে ওদের জন্য শুভেচ্ছা রইল।”
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না পাওয়ায় কিছুটা চিন্তিত হাবাস। তিনি জানান, “ফুটবলারদের সঙ্গে সেভাবে পরিচিত হওয়ারই সুযোগ পাইনি। মাত্র দুটো ট্রেনিং সেশনে দলের প্রত্যেকের খেলার ধরণ বা পছন্দ বোঝা বেশ কঠিন। বিপক্ষ দলেরও হয়তো একই অবস্থা। তবে এটুকু বুঝতে পেরেছি যে, এই দলটির লড়াই করার মানসিকতা আছে এবং তারা বেশ ভালো।”
দল গঠন ও চোট-আঘাতের সমস্যা
ইস্টবেঙ্গলের স্কোয়াড গঠন নিয়ে এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্প্যানিশ কোচ। তিনি জানান, দল গঠনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। “আমরা আরও ফুটবলার নেওয়ার চেষ্টা করছি, বিশেষ করে অন্তত দুজন ভালো দেশীয় ফুটবলার। তবে বর্তমান স্কোয়াডের ফুটবলাররাও যথেষ্ট দক্ষ। আমরা প্রতিদিন উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
ডার্বিতে চোটের কারণে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে না পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন হাবাস। তিনি জানান, চোটের কারণে শনিবারের মহারণে বরিস সিং এবং দানিশ ফারুককে মাঠে পাওয়া যাবে না। তাঁদের সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডুরান্ড কাপের শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে তাঁদের মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

