ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ চত্বর। কলেজের এক ভূগোল বিভাগের অতিথি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শুক্রবার তাঁকে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে, মাথায় ঝাঁটা ও জুতো মেরে রাস্তায় হাঁটালেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া এবং মুখে কাদা মাখানোর মতো চরম প্রতিবাদের ছবি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
গায়ে কাদা ও জুতোর মালা, রাস্তায় চরম বিক্ষোভ
স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ওই ভূগোল বিষয়ের অতিথি শিক্ষক বেশ কিছুদিন ধরেই সেখানে কর্মরত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমে কিংবা বাড়িতে টিউশন পড়ানোর অজুহাতে ডেকে এনে ছাত্রীদের নানাভাবে অশালীনভাবে স্পর্শ করতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন। অভিযোগ মেনে চললে পরীক্ষায় বাড়তি নম্বর দেওয়া এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেভাগে পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন তিনি। আবার তাঁর কথা না শুনলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও দাবি করেছেন একাধিক ছাত্রী।
শুক্রবার এক ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলতেই অন্য শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। শিক্ষক কলেজে প্রবেশ করা মাত্রই তাঁর ওপর চড়াও হন ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁকে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে এবং মাথায় ঝাঁটা ও জুতো মেরে কলেজের বাইরের রাস্তায় ঘোরানো হয়। পুরো ঘটনা চলাকালীন তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছোড়া হয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও অধ্যক্ষের বক্তব্য
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের হাত থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে বর্তমানে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়ার পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ সেই অনুযায়ী আইনানুগ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বে এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। পুরো ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি এখন পুলিশের হস্তক্ষেপে রয়েছে এবং পুলিশ উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন তাঁরা।

