জাতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET) অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আয়োজিত আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘চলো সংসদ’ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার ছররা ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও দিল্লির সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-এর অধীনস্থ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।
হাসপাতালের রিপোর্টে ছররা ক্ষতের উল্লেখ
দিল্লি পুলিশ পূর্বে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ছররা গুলির অভিযোগকে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর” বলে দাবি করেছিল। তবে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ জুলাই বিকেল ৪টে নাগাদ চিকিৎসাধীন ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের ডান কনুই ও পিঠে ‘ছররার ক্ষত’ স্পষ্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ছররা ত্বকের গভীরে বিদ্ধ হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট স্থানে গাঢ় ক্ষত তৈরি হয়েছে।
রাহুলের তীব্র আক্রমণ ও সাহিল লোহছাবের প্রসঙ্গ
শুক্রবার ছররা গুলিতে আহত ১৯ বছর বয়সী যুবক সাহিল লোহছাবকে পাশে নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষার ছাত্র সাহিল জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে যোগ দিয়ে ডান চোখে ছররার আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
রাহুল গান্ধী বলেন, “সরকার ছররা ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে, কিন্তু চিকিৎসকদের রিপোর্ট ও সাহিলের শরীরের ক্ষতচিহ্নই তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। কেন্দ্র আর কত মিথ্যা বলবে? তারা কার্যত ভারতের ভবিষ্যৎ যুবসমাজের দিকেই গুলি ছুড়েছে।”
র্যাফের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত
ঘটনা তদন্তে র্যাফের ডিরেক্টর জেনারেল বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিটিআই-এর বরাতে র্যাফ অফিসাররা জানিয়েছেন— আন্দোলনস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ছবি এবং বিভিন্ন ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেদিনের ঘটনায় র্যাফ জওয়ানদের ওপর কোনো আক্রমণ হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মিললে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ‘কোর্ট অফ ইনকোয়ারি’ গঠন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে কাশ্মীরে অশান্তি দমনে প্রথম ছররা গুলির ব্যবহার শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালেও উপত্যকায় এর প্রয়োগ বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তবে দিল্লির বুকে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর এই বলপ্রয়োগের অভিযোগ নতুন করে কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করল। আন্দোলনকারীরা এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে নিজেদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

