অবৈধ ও ভেজাল বোতলবন্দি জল নিয়ে এফএসএসএআই-এর সতর্কতা: ক্রয়ের আগে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পরামর্শ

অবৈধ ও ভেজাল বোতলবন্দি জল নিয়ে এফএসএসএআই-এর সতর্কতা: ক্রয়ের আগে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পরামর্শ

নামী ব্র্যান্ডের লেবেল সেঁটে নিম্নমানের বা অসংশোধিত বোতলবন্দি জল বিক্রির বেআইনি ব্যবসা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারতের খাদ্য সুরক্ষাকর্তৃপক্ষ (FSSAI)। প্রতিদিন যাতায়াতের পথে বা প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ যে ‘মিনারেল ওয়াটার’ বা প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার কিনে থাকেন, তার গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জলের বোতল কেনার আগে বেশ কিছু সুরক্ষাবিধি মেনে তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বেআইনি জলের কারখানা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে নজরদারির অভাবে ভেজাল ও অনিরাপদ জলের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে। পাম্পের সাহায্যে সরাসরি ভূগর্ভস্থ জল তুলে কোনো প্রকার শোধন ছাড়াই বোতলে ভরে তা বিক্রি করা হচ্ছে। এই ধরনের অসংশোধিত জলে ক্ষতিকর জীবাণুর পাশাপাশি আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির আশঙ্কা প্রবল। খালি চোখে শোধিত ও অসংশোধিত জলের পার্থক্য বোঝা দুঃসাধ্য হওয়ায় না জেনে তা পান করে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

নিরাপদ বোতলবন্দি জল চেনার নিয়মাবলী

যাতে ক্রেতারা প্রতারিত না হন এবং বিষাক্ত জল পান করা থেকে বিরত থাকেন, তার জন্য এফএসএসএআই বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে:

  • লাইসেন্স নম্বর পরীক্ষা: বোতলের গায়ে এফএসএসএআই-এর (FSSAI) ১৪ সংখ্যার বৈধ লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট মুদ্রিত রয়েছে কি না তা দেখা জরুরি। এই নম্বর না থাকলে জলটি শোধিত নয় বলে ধরে নিতে হবে।
  • সিল ও ঢাকনার নিরাপত্তা: কেনাকাটার সময় বোতলের মুখ বা প্লাস্টিকের সিলটি অক্ষত রয়েছে কি না সুনিশ্চিত করতে হবে। সিল ভাঙা বা আলগা থাকলে সেই বোতল কেনা অনুচিত।
  • লেবেল ও তথ্যের স্পষ্টতা: প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নম্বর (Batch Number), উৎপাদনের তারিখ এবং ব্যবহারের শেষ সময়সীমা (Expiry Date) অবশ্যই থাকতে হবে।
  • স্বচ্ছতা ও গন্ধ পরীক্ষা: জল ঘোলাটে হলে বা বোতলের তলানিতে কোনো অবশেষ জমলে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া জল পানের সময় যদি কোনো অপ্রাকৃতিক বা রাসায়নিক/ওষুধের ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে তা পান করা বিপজ্জনক।
  • সঠিক শ্রেণীবিভাগ চিহ্নিতকরণ: বোতলের গায়ে জলটি ‘প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার’ (Packaged Drinking Water) নাকি ‘মিনারেল ওয়াটার’ (Natural Mineral Water)— তা স্পষ্ট লেখা থাকা দরকার। ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত খনিজযুক্ত জল হলো মিনারেল ওয়াটার, আর যেকোনো উৎস থেকে সংগৃহীত জল রিভার্স অসমোসিস (RO) প্রক্রিয়ায় জীবাণুমুক্ত করা হলে তা প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার। এই দুইয়ের কোনো উল্লেখ না থাকলে তা সাধারণ কলের জল হতে পারে।
  • সংরক্ষণের পদ্ধতি: যে সমস্ত দোকানে সরাসরি সূর্যের আলোয় বা স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোতল সাজিয়ে রাখা থাকে, সেখান থেকে বোতলবন্দি জল না কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.