উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালিয়েছে এক জঙ্গি সংগঠন। দেশটির সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকভর্তি একটি দ্রুতগামী গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জনই পাক সেনাবাহিনীর সদস্য।
নিরাপত্তা বলয় ভেদ করার ব্যর্থ চেষ্টা
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা টাঙ্ক জেলায় অবস্থিত ওই সেনা ছাউনির ভেতরের নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বিস্ফোরকবাহী গাড়িটি। তবে সেনাকর্মীদের তৎপরতায় ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে গাড়িটি চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে সজোরে ধাক্কা মারে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় চেকপোস্টের নিরাপত্তা প্রাচীরটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১২ জন সেনাসদস্যের পাশাপাশি ২ জন পুলিশকর্মী এবং বনবিভাগের ১ জন প্রাক্তন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP) এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
সীমান্ত অঞ্চলে বাড়তে থাকা জঙ্গি তৎপরতা
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসেই বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে একই কায়দায় হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে অন্তত ৩০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিল ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)। বেলুচিস্তানের পাশাপাশি আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশটিতেও ক্রমাগত হামলা চালিয়ে রক্তক্ষয়ী পরিবেশ বজায় রাখছে বিভিন্ন সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী।

