ফিফার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: অবশেষে নীরবতা ভাঙল ফিফা, কড়া জবাব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে

ফিফার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: অবশেষে নীরবতা ভাঙল ফিফা, কড়া জবাব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে

সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার সাফল্য ঘিরে অনিয়ম এবং পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ উঠেছিল, তার কড়া জবাব দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বজয়ের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার ‘বিশেষ বদান্যতা’ ছিল— সমাজমাধ্যমে এমন একটি পোস্ট পরোক্ষভাবে সমর্থন করে বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সেই অভিযোগ ও জল্পনা খারিজ করে বিবৃতি জারি করেছে আন্তর্জাতিক এই ফুটবল সংস্থা।

বিতর্কের সূত্রপাত ও রোনাল্ডোর পদক্ষেপ

বিশ্বকাপ সমাপ্তির পর স্পেনের সাংবাদিক রদ্রিগেজ লোসান্তস একটি ভিডিও বার্তায় ফিফা ও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, “কমপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ আগেই আর্জেন্টিনার বিদায় নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফিফার বিশেষ সহানুভূতির কারণেই তারা ফাইনালে উঠতে পেরেছে।” ফিফাকে ‘বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমরা আর্জেন্টিনাকে ভয় পাই না, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (ফিফা সভাপতি) ভয় পাই। মনে হচ্ছে, ফিফা শুরু থেকেই মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দিতে চেয়েছিল।”

বিতর্কের আগুন আরও তীব্র হয় যখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এই ভিডিওটিতে একটি ‘লাইক’ দেন। রোনাল্ডো প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁর এই পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি ওই স্প্যানিশ সাংবাদিকের বক্তব্যের সাথে একমত। ওই লাইকের স্ক্রিনশট দ্রুত সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফিফার কড়া জবাব ও সাফাই

রোনাল্ডোসহ একাধিক মহলের পক্ষ থেকে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“ফিফা আয়োজিত যেকোনো প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমাদের নিজস্ব দুর্নীতি দমন শাখা রয়েছে। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তের ওপর সতর্ক নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কোথাও কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ফিফা কোনো হস্তক্ষেপ করে না। সমস্ত তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, পুরো টুর্নামেন্ট অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য করে ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

ধারাবাহিক বিতর্কের জের

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ চলাকালীন মিশর ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং ও ভিএআর (VAR)-এর ব্যবহার নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিদ্ধান্তগুলো বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। এমনকি ফাইনালের আগে স্পেনের ফুটবলার আইমেরিক লাপোর্তেও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

ফাইনাল ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অপ্রীতিকর ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার নেপথ্যে এই সমস্ত বিতর্কই অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফিফা জানিয়েছে, ফাইনাল পরবর্তী সেই হাতাহাতির ঘটনার আলাদাভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.