বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের শান্ত থাকা এবং সবকিছু ‘ভুলে যাওয়ার’ অনুরোধ করেছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের পর সমাজমাধ্যমে তাঁর এই বার্তার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়তেই ফুটবল বিশ্বে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়। আর্জেন্টিনার সাজঘরে কোনো অভ্যন্তরীণ বিবাদ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠতে শুরু করে নানা প্রশ্ন। অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বাবা কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার।
ফাইনালের দিন ড্রেসিংরুম ও টানেলের দৃশ্য
ফাইনাল ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে সাজঘর থেকে মাঠে নামার সময় দলকে উদ্দেশ্যে করে মেসি বলেছিলেন:
“শান্ত থাকো। সকলে শান্ত থাকো। শুধু খেলার কথা ভাবো, আর কিছু নয়। শান্ত থাকো। সব কিছু আজকের জন্য ভুলে যাও। খেলা ছাড়া আর কিছু যেন মাথায় না থাকে।”
এমনকি কিক-অফের ঠিক পূর্বেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক সতীর্থদের উদ্দেশে বলেন, “এগিয়ে চলো সকলে। আগে যা হয়েছে সব ভুলে যাও। মনে করো কিছুই হয়নি।” এ সময় দলের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং এনজো ফার্নান্দেজকে বেশ চিন্তিত ও হতচকিত দেখা যায়। উল্লেখ্য, ম্যাচে প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মার্তিনেজ এবং দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এনজোকে— যা আর্জেন্টিনার ফলাফলে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ম্যাচের বিরতিতেও টানেল দিয়ে মাঠে ফেরার সময় দলকে চাঙ্গা করতে মেসি বলেন, “জেগে ওঠো। ব্যক্তিত্ব দেখাও। আগেও আমরা প্রত্যাবর্তন করেছি, তা হলে এ বার কেন পারব না? আমাদের আরও ভাল খেলার ক্ষমতা আছে।” সেখানে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজও সতীর্থদের আক্রমণাত্মক খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কার্লোসের স্পষ্টীকরণ
ভিডিও ফুটেজগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধে। আর্জেন্টিনার একটি সংবাদমাধ্যমে কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার জানান, ভিডিও দেখে চিন্তিত হয়ে তিনিও ছেলে অ্যালেক্সিসকে বার্তা পাঠিয়ে সাজঘরের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
তবে সাজঘরে দলের মধ্যে কোনো বিরোধের বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কার্লোস। ছেলের সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মেসির সেই বক্তব্যের পেছনে কোনো অঘটন বা বিবাদ ছিল না।
কার্লোস বলেন, “আ্যালেক্সিস আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছে, মেসি সবাইকে শুধু ফুটবলের কৌশল কাজে লাগাতে বলছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সবাই যেন আবেগপ্রবণ হয়ে না লাফিয়ে খেলায় মনোযোগ দেয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং পাসিং ট্রায়াঙ্গল তৈরি করে খেলে। মেসি বারবার সেটুকুই বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, ছড়িয়ে পড়া ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। আর্জেন্টিনার সাজঘরে কোনো মানসিক তিক্ততা বা ঝামেলা ছিল না; বরং খেলোয়াড়দের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি বজায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

