আধুনিক ফুটবলে তারকাদের আকাশছোঁয়া সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো তাঁদের কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাস। মাঠের চরম পরিশ্রমের ধকল সামলাতে ফুটবলাররা নিজেদের শরীরকে ‘মন্দির’জ্ঞানে যত্ন করে থাকেন। তবে এই দৌড়ে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে বোধহয় একটু বেশিই কঠোর ও সচেতন। শরীরে কী ধরণের পুষ্টি প্রবেশ করছে, সে বিষয়ে তিনি অতিমাত্রায় সতর্ক। লোভনীয় সব খাবার থেকে শতহস্ত দূরে থাকা এই ফরাসি স্ট্রাইকার মদ্যপান যেমন করেন না, তেমনই ছোঁন না কোনো রেড মিট (লাল মাংস)।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন বুট (সোনার বুট) পাওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে। ৬টি ম্যাচে ৮টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৩টি গোল করাতেও সাহায্য করেছেন তিনি। পায়ে চোট থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর অসীম ভরসা রাখছেন দলের কোচ। আর তাঁর এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ও মাঠে ক্ষিপ্রতার নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ এক খাদ্যাভ্যাস।
দিনে ৬ বারের সুষম খাদ্যতালিকা
এমবাপে সারা দিনে মোট ছয়বার খাবার গ্রহণ করেন। তাঁর প্রতিটি মিল বা খাবারে প্রোটিন, শর্করা, স্নেহপদার্থ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিনের এক নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।
নিচে এমবাপের দৈনিক খাদ্যতালিকা তুলে ধরা হলো:
- ১. প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট): সেদ্ধ ডিমের সঙ্গে অ্যাভোকাডো অথবা চিনি ছাড়া দুধ-ওটসের তৈরি ওটমিল। পুষ্টিগুণ বাড়াতে এর সঙ্গে তিনি মিশিয়ে নেন আমন্ড বাটার।
- ২. সকালের জলখাবার: উচ্চ প্রোটিনযুক্ত হাই-প্রোটিন বার।
- ৩. মধ্যাহ্নভোজ (লাঞ্চ): মুরগির চর্বিহীন মাংস (লিন মিট) অথবা চর্বিবিহীন কোনো মাছের সাথে বিভিন্ন সবজির স্যালাড দিয়ে তৈরি আটা বা মাল্টিগ্রেন রুটির রোল।
- ৪. বিকেলের জলখাবার: হাই-প্রোটিন শেকের সঙ্গে একটি তাজা ফল অথবা কিছু ড্রাই ফ্রুটস (শুকনো ফল)।
- ৫. নৈশাহার (ডিনার): গ্রিল করা মাছ বা মুরগির মাংসের সঙ্গে ব্রাউন রাইস এবং বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি তরকারি। উল্লেখ্য, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই নৈশাহার পর্ব সেরে ফেলেন এই ফরাসি তারকা।
- ৬. প্রাক-ঘুম আহার (বেডটাইম মিল): রাতে ঘুমানোর সময় যাতে পেশির মেরামত (মাসল রিকভারি) সঠিকভাবে হয়, তার জন্য শুতে যাওয়ার ঠিক আধ ঘণ্টা আগে তিনি প্রোটিন শেক পান করেন।
যে সব খাবার ছোঁন না ফরাসি তারকা
মাঠে নিজেকে সেরা ফর্মে ধরে রাখতে এমবাপের খাদ্যতালিকায় বেশ কিছু খাবারের ওপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কার্বোনেটেড নরম পানীয় (কোল্ড ড্রিঙ্কস), আলুর চিপস, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি তিনি ভুলেও খান না। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন— বেকন, সসেজ, হ্যাম এবং যেকোনো ধরনের প্যাকেটজাত খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন কিলিয়ান এমবাপে। এই কঠোর জীবনশৈলীই তাঁকে মাঠে অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে।

