তোলাবাজি মামলা: নেপাল সীমান্ত থেকে ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ

তোলাবাজি মামলা: নেপাল সীমান্ত থেকে ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে এবার হাফপ্যান্ট পরিয়ে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ। বৃহস্পতিবার ফলতা থানার পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে মামলার ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করান। তবে ইদানীংকালে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে কোমরে দড়ি বাঁধার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, জাহাঙ্গিরের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে এদিন জাহাঙ্গির খানকে তাঁর নিজের বাসভবন এবং স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধৃত নেতার উপস্থিতিতেই তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারীরা।

নেপাল সীমান্ত থেকে ‘পুষ্পা’র গ্রেফতারি

গত ৮ জুন ভারতের নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে নেপাল সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়েই এসটিএফের আধিকারিকরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত এই তৃণমূল প্রার্থীকে পাকড়াও করেন এবং কলকাতায় নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, ভোটের প্রচার পর্বে জাহাঙ্গিরের মুখে ‘পুষ্পা’ চলচ্চিত্রের বিখ্যাত ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপটি শোনা গিয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট শোরগোল হয়।

ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড়

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির।

সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানিয়েছিলেন:

“আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।”

ভোটের ঠিক আগে তিনি সরে দাঁড়ালেও ইভিএম (EVM) মেশিনে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে তাঁর নাম থেকে গিয়েছিল। নির্বাচনে তিনি ৭,৭৮৩টি ভোট পান। নির্বাচনের আগেই তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ যৌথ হানা দিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ফলতা থানায় তোলাবাজিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রুজু রয়েছে।

কোমরে দড়ি কাণ্ড ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর ঘটনা সামনে এসেছে। এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্ট অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।

আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ:

  • পুলিশ কোনও অভিযুক্তকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করতেই পারে।
  • কিন্তু গ্রেফতারির পর ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমক্ষে তাঁর সম্মানহানি বা হীন প্রতিপন্ন করা যাবে না।
  • কেন এই ধরণের প্রথা বা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, তা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে।

আইনি এবং আদালতের এই কড়াকড়ির কারণেই সম্ভবত এদিন জাহাঙ্গির খানের কোমরে দড়ি না পরালেও, হাফপ্যান্ট পরিহিত অবস্থায় তাঁর হাত ধরে ফলতার রাস্তায় টানতে টানতে নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলতা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.