আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর আনন্দের আতিশয্যে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার। কিন্তু দলে সুযোগ পেলেও মূল মঞ্চে তিনি শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আবারও বড়সড় সংশয় তৈরি হলো। বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি, ঠিক তখনই নতুন করে চোটের কবলে পড়লেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। সেলেকাও শিবিরে এখন একটাই প্রশ্ন— বিশ্বকাপের আগে সম্পূর্ণ ফিট হতে পারবেন তো নেইমার?
২০২৩ সালে হাঁটুতে লিগামেন্টের গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ফুটবল মহলে যথেষ্ট ধোঁয়াশা ছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমারকে রেখেই দল ঘোষণা করেন। আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, মেগা টুর্নামেন্টে নেইমারের বিপুল অভিজ্ঞতা দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হবে। কিন্তু নতুন করে এই চোট নিশ্চিতভাবেই চিন্তা বাড়িয়ে দিল কোচের।
ক্লাব ফুটবলে অনুপস্থিতি ও শিবিরে যোগদানের ডেডলাইন
চোটের কারণে স্যান্টোসের হয়ে সান লোরেঞ্জোর বিরুদ্ধে কোপা সুদামেরিকানার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। এমনকি গ্রেমিওর বিরুদ্ধে ঘরোয়া লিগের আগামী ম্যাচেও তাঁর খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে-র মধ্যে জাতীয় দলের সমস্ত ফুটবলারকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিতে হবে। অর্থাৎ, শিবিরে যোগ দেওয়ার আগেই নেইমারকে তাঁর ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে আনচেলত্তি বাধ্য হয়ে তাঁর বিকল্প কোনো ফুটবলারের নাম ঘোষণা করতে পারেন।
চোট নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকেরা?
নেইমারের চোটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অবশ্য কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছেন স্যান্টোস ক্লাবের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো জোগানিব। তিনি জানান:
“নেইমারের পায়ের পেশিতে (Muscle Injury) চোট লেগেছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মনে করা হচ্ছে যে এই চোট খুব একটা গুরুতর নয়।”
বর্তমানে স্যান্টোস এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের যৌথ মেডিক্যাল টিম যৌথভাবে নেইমারের শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে। চিকিৎসকদের আশা, ২৭ মে ব্রাজিল শিবিরে যোগ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই এই তারকা ফুটবলার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) অভিযানের অংশ হতে পারবেন।

