ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে আবারও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গত রবিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে অভিষেককে নিশানা করার পর, বৃহস্পতিবার— ঠিক ফলতার ভোটগ্রহণের দিনেই— নতুন করে খোঁচা দিলেন তিনি।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “উনি এ বার একটু আন্দোলন করুন, তা হলে ঠিকঠাক লাগবে। ফলতায় তো কোনও প্রচার নেই, পোস্টার নেই। বিজেপির পতাকা খোলার লোক যেমন নেই, তেমনই তৃণমূলের পতাকা লাগানোর লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
“তোমাকে আমরা মিস্ করছি, তুমি এসো”
এর আগে গত রবিবার ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে আয়োজিত একটি প্রচার সভা থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সাহায্য ছাড়া তৃণমূল নেতারা অচল— এই দাবি তুলে শমীক সেদিন বলেছিলেন:
“পুলিশ নেই, তাই নেতা নেই। কনভয় নেই, তাই হুঙ্কার নেই! আমরা তো বলছি, আপনি আসুন ফলতায়। প্রচার করুন। আমাদের কর্মীরা এবং জেলা সভাপতি ফুল নিয়ে শাঁখ বাজিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবেন।”
তৃণমূলের শীর্ষনেতার অনুপস্থিতি নিয়ে উপহাস করে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনি আসুন, হে বীর তোমার আসন পূর্ণ করো। তোমাকে আমরা মিস্ করছি। ভীষণ… তুমি এসো।”
জাহাঙ্গিরের সরে দাঁড়ানো ও দিল্লি সফর ঘিরে জল্পনা
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, শমীক ভট্টাচার্যের ওই আক্রমণাত্মক সভার ঠিক দু’দিন পরেই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আকস্মিকভাবেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।
এদিকে, রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। তবে বৃহস্পতিবার সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন খোদ শমীক। দিল্লি সফর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, “এই দিল্লি সফরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে কোনও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” তবে কবে নাগাদ এই সম্প্রসারণ হতে পারে, সে বিষয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

