আইপিএল (IPL) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাতের কাছে উড়ে গেল তারা। গুজরাতের বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ১৪০ রানে। ম্যাচটিতে ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে জয়ী হয় গুজরাত। চেন্নাইয়ের এই মেগা হারে প্লে-অফের দৌড়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল কলকাতা। এখন কলকাতার পরবর্তী লক্ষ্যের জন্য শুধু পাঞ্জাবের হারের অপেক্ষা।
এই জয়ের ফলে লিগ তালিকায় ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে গেল গুজরাত। এখন প্রথম দুই দলের মধ্যে থেকে লিগ পর্ব শেষ করার জন্য তাদের মূল লড়াই বেঙ্গালুরুর সঙ্গে। অন্যদিকে, মাত্র ১২ পয়েন্ট নিয়ে এবারের আইপিএল অভিযান শেষ করল চেন্নাই। আর এই হারের সাথেই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব— আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথমবার মহেন্দ্র সিং ধোনিকে একটি ম্যাচেও মাঠে নামতে দেখা গেল না।
সুদর্শন-শুভমনের ব্যাটে গুজরাতের রানের পাহাড়
এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাই অধিনায়ক। তবে শুরু থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে থাকেন গুজরাতের ওপেনারেরা। আইপিএলে সাই সুদর্শন এবং শুভমন গিল জুটির দাপট নতুন কিছু নয়, বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদে তারই আরও এক বিধ্বংসী রূপ দেখা গেল। মুকেশ চৌধুরী, স্পেন্সার জনসন বা অংশুল কম্বোজ— চেন্নাইয়ের কোনো বোলারই এই জুটির সামনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেননি।
মাত্র ২৩ বলে ঝোড়ো অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শুভমন গিল, যা চলতি আইপিএলে তাঁর টানা পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পঞ্চাশের গণ্ডি পার করেন সুদর্শনও। প্রথম উইকেটে এই জুটি স্কোরবোর্ডে ১২৫ রান যোগ করে। শেষ পর্যন্ত ৭টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৩৭ বলে ৬৪ রান করে শুভমন বিদায় নেন।
তিন নম্বরে নামা জস বাটলারও শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। শুভমন ফিরলেও সুদর্শন নিজের চেনা ছন্দে রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। সেঞ্চুরির এক দারুণ সুযোগ থাকলেও, ৫৩ বলে ৮৪ রান (৭টি চার ও ৪টি ছয়) করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সুদর্শন। বাটলারের সঙ্গে তাঁর মাত্র ৩৬ বলে ৮২ রানের একটি বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। মাঝে রাহুল তেওতিয়া প্রথম বলেই আউট হলেও, গুজরাতকে ২২৯ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছে দিতে মূল ভূমিকা নেন বাটলার। তিনি ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ২৭ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে গুজরাত তোলে ২২৯/৪।
সিরাজের প্রথম ওভারের ধাক্কা, তাসের ঘরের মতো ভাঙল চেন্নাই
২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই চরম ধাক্কা খায় চেন্নাই। মহম্মদ সিরাজের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার জস বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন সঞ্জু স্যামসন (০)। চলতি মরসুমে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং মূলত সঞ্জুর ওপর ভর করেই সাফল্য পেয়েছে, তাই তাঁর গোল্ডেন ডাক দলের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে চেন্নাইকে আরও বড় ধাক্কা দেন সিরাজ। একই ওভারে তিনি তুলে নেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (১৬) এবং উর্বিল প্যাটেলকে (০)। ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওপেনার ম্যাথু শর্ট (২৪)। মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে চেন্নাই।
| চেন্নাইয়ের প্রধান ব্যাটারদের পারফরম্যান্স | রান | বল |
| সঞ্জু স্যামসন | ০ | ১ |
| রুতুরাজ গায়কোয়াড় | ১৬ | – |
| ম্যাথু শর্ট | ২৪ | – |
| শিবম দুবে | ৪৭ | ১৭ |
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল একটি শক্ত পার্টনারশিপের, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। মিডল অর্ডারে শিবম দুবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। ততক্ষণে অবশ্য চেন্নাইয়ের ৫টি উইকেট পড়ে গিয়েছে। ৪টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১৭ বলে ৪৭ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে শিবমও আউট হয়ে যান। এরপর শেষ ভরসা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও (৮) সস্তায় বিদায় নিলে চেন্নাইয়ের জয়ের সব আশা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানেই থমকে যায় চেন্নাইয়ের ইনিংস।

