কলকাতার ব্যস্ততম নিউ মার্কেট থানা এলাকার অমিয় হাজরা লেনে বুধবার সকালে এক নাবালককে দোকানে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ একটি ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম দীপক গুপ্ত (১৭)। সে স্থানীয় নিউ মার্কেট থানা এলাকারই বাসিন্দা ছিল। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ থানায় খবর যায় যে, অমিয় হাজরা লেনের একটি দোকানে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত দীপককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখান থেকে পরে তাকে নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুর ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় তার।
দোকানে ঢুকে আকস্মিক হামলা: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার সকালে দীপক তাদের নিজেদের সব্জির দোকানে বসেছিল। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সেখানে আচমকা চড়াও হন ২৫ বছর বয়সী শশী তেভর নামে এক যুবক। শশী দীপকদেরই প্রতিবেশী।
অভিযোগ, দোকানে ঢুকেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে শশী ছুরি দিয়ে দীপককে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। দীপকের গলায় এবং শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত তৈরি করা হয়। দীপকের আর্তনাদ শুনে তার দাদা এবং বন্ধুরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত শশী ছুরি উঁচিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘নিক্কো পার্ক’ ও ত্রিকোণ প্রেম
খুনের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আক্রোশ।
- পূর্ব শত্রুতা: অভিযুক্ত শশী ওই এলাকারই এক তরুণীকে ভালোবাসতেন। ঘটনাচক্রে, ওই তরুণী নিহত দীপকের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। দীপকের সাথে ওই তরুণীর এই মেলামেশা ও বন্ধুত্ব কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না শশী। এই নিয়ে তিনি এর আগে দীপককে বেশ কয়েকবার ‘সাবধান’ করেছিলেন এবং ওই তরুণীর থেকে দূরে থাকার জন্য হুমকিও দিয়েছিলেন।
- নিক্কো পার্কের ঘটনা: পুলিশ জানতে পেরেছে, গত মঙ্গলবার (ঘটনার আগের দিন) দীপক তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীর সাথে সল্টলেকের নিক্কো পার্কে বেড়াতে গিয়েছিল। সেই দলে শশীর পছন্দের ওই তরুণীও উপস্থিত ছিলেন। দীপক ও ওই তরুণী একসঙ্গে নিক্কো পার্কে বেরাতে যাওয়ার খবর কোনোভাবে জানতে পেরেই চরম ক্ষুব্ধ ও হিংস্র হয়ে ওঠেন শশী। এর পরেই বুধবার সকালে পরিকল্পনা মাফিক দীপকের দোকানে গিয়ে এই হামলা চালান তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশি পদক্ষেপ
নাবালকের মৃত্যুর পর নিউ মার্কেট থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ নিহত দীপক গুপ্তের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত শশী তেভর। তাঁর খোঁজে এলাকায় এবং সম্ভাব্য সমস্ত ডেরায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

