দীর্ঘ ৯ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে অবশেষে চিনা ভূখণ্ডে পা রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধের আবহে দু’মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর, বুধবার বিশেষ বিমানে বেজিং পৌঁছন তিনি। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চিন সফর ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
বিমানবন্দরে রাজকীয় অভ্যর্থনা
এবারের সফরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে বেজিং বিমানবন্দরের উপস্থিত ছিলেন চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান জ়েং। উল্লেখ্য, গতবার ট্রাম্পের সফরে তুলনামূলক নিম্নপদস্থ নেতা স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জেইচিকে পাঠানো হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি ট্রাম্পের প্রতি চিনের বর্তমান ‘নমনীয়’ মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
আলোচনার টেবিলে মূল ইস্যুসমূহ
তিন দিনের এই সফরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একাধিক জটিল বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে:
- বাণিজ্যিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধান: গত বছরের শুল্ক যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনে ট্রাম্প সয়াবিন, বিমানের যন্ত্রাংশ ও মার্কিন প্রযুক্তি পণ্য চিনা বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করতে দর কষাকষি করতে পারেন।
- বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals): ইলেকট্রিক মোটর, ড্রোন ও স্মার্টফোন তৈরির অপরিহার্য উপাদান নিওডিমিয়াম বা সামারিয়ামের মতো খনিজের জোগানে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। চিন সম্প্রতি এর রফতানিতে কড়াকড়ি শুরু করায় মার্কিন শিল্পক্ষেত্রে উদ্বেগ বেড়েছে। এই বিধিনিষেধ শিথিল করা আমেরিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- ইরান ও পশ্চিম এশিয়া: হরমুজ় প্রণালীর অস্থিরতা ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও তাঁর দাবি, ইরান মোকাবিলায় চিনের সাহায্য তাঁর প্রয়োজন নেই, তবে চিনের ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম মেধা (AI)
কৃত্রিম মেধার বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া ওয়াশিংটন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য চিনের দরজা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করবেন শি জিনপিংকে। অন্যদিকে, সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার নিয়ে বেজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও এই বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
তাইওয়ান কাঁটা
বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হতে চলেছে তাইওয়ান। গত বছর তাইওয়ানকে প্রায় ১১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন, যা চিনকে ক্ষুব্ধ করেছে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে, আলোচনার টেবিলে তাইওয়ান প্রসঙ্গ অবধারিতভাবে উঠে আসবে।
এক নজরে ট্রাম্পের সফর:
- সময়কাল: ৩ দিন।
- গুরুত্ব: বাণিজ্য, শুল্ক নীতি, বিরল খনিজ সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
- আশঙ্কা: তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে মতভেদ।
এই সফরের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে চলেছে আগামী দিনে বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিধর দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের রসায়ন। দু’পক্ষই চাইবে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে।

