প্যারিস অলিম্পিক্সের রেশ কাটিয়ে ফের প্রতিযোগিতামূলক কুস্তিতে ফিরছেন বিনেশ ফোগাট। জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ম্যাটে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে কামব্যাকের আগেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন এই ভারতীয় কুস্তিগির। ডোপ পরীক্ষার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে কড়া সতর্কতা জারি করল আন্তর্জাতিক পরীক্ষা সংস্থা (আইটিএ)।
ডোপ পরীক্ষা এড়ানোর অভিযোগ ও বিধিনিষেধ
আইটিএ-র প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে বিনেশের ডোপ পরীক্ষা করার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, নথিভুক্ত পরীক্ষা তালিকা বা আরটিপি-র (Registered Testing Pool) অন্তর্ভুক্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতিদিন ৬০ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থান আগে থেকে জানিয়ে রাখতে হয়, যাতে ডোপ নিয়ন্ত্রণ আধিকারিকরা যেকোনো সময় নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন। অভিযোগ, নির্ধারিত সেই এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বিনেশকে পাওয়া যায়নি।
বিনেশের সাফাই ও সংস্থার অসন্তোষ
ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ার বিষয়ে গত ৫ জানুয়ারি বিনেশকে নোটিস পাঠানো হয়। ১৯ জানুয়ারি দেওয়া জবাবে বিনেশ জানান, হরিয়ানা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি চণ্ডীগড়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া সন্তানের দেখাশোনার প্রয়োজনেও তাঁকে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। তবে বিনেশের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি আইটিএ। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তিনি বিধায়ক হোন বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকুন না কেন, নিজের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁর প্রাথমিক কর্তব্য। উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে আরও দু’বার একই ভুল করলে বিনেশ বড়সড় নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন।
ব্রিজভূষণের গড়ে প্রত্যাবর্তন: নিরাপত্তাহীনতায় বিনেশ
মজার বিষয় হলো, যাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিনেশ, সেই ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের শক্তিশালী গড় হিসেবে পরিচিত গোন্ডাতেই আয়োজিত হচ্ছে আসন্ন এই কুস্তি প্রতিযোগিতা। এই ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে আগেই সরব হয়েছেন বিনেশ। তাঁর দাবি:
- সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্রিজভূষণের প্রবল প্রতিপত্তি রয়েছে।
- ম্যাচ পরিচালনা থেকে শুরু করে ম্যাট চেয়ারম্যান— সবকিছুই অভিযুক্ত নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
- প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাঁর দল বা সমর্থকদের কোনো ক্ষতি হলে তার জন্য ভারত সরকার দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিনেশ।
মানসিক চাপের মুখে পারফরম্যান্স নিয়ে সংশয়
মামলা চলাকালীন ব্রিজভূষণের এলাকায় খেলতে নামা তাঁর ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিনেশ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি মামলার অন্যতম সাক্ষী। ওর নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিদের সামনে কুস্তি লড়তে হওয়ায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় প্রতিযোগিতায় নিজের ১০০ শতাংশ দেওয়া সম্ভব নয়।”
প্রশাসনিক চাপ এবং ডোপিং সতর্কবার্তার মধ্যেই বিনেশ ফোগাটের এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ক্রীড়া মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে কুস্তির ম্যাটে তিনি কতটা সফল হতে পারেন।

