চরম আর্থিক সঙ্কটে পাকিস্তান ক্রিকেট: ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আইনি নোটিস পিসিবি-র

চরম আর্থিক সঙ্কটে পাকিস্তান ক্রিকেট: ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আইনি নোটিস পিসিবি-র

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার মাঠের বাইরের আর্থিক ডামাডোলে বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগ তুলে আইনি নোটিস পাঠাল মহসিন নকভি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছেন দলগুলির মালিকপক্ষও।

পিসিবি-র হুঁশিয়ারি ও আইনি পদক্ষেপ

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, পিএসএল-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফি এবং আনুষঙ্গিক বকেয়া দীর্ঘ সময় ধরে মেটায়নি বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে গত বছরের বকেয়াও রয়েছে। পিসিবি কড়া ভাষায় জানিয়েছে, দ্রুত এই অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে লিগ থেকে নির্বাসিত করা হতে পারে। বোর্ডের দাবি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে ভারতীয় মুদ্রায় তাদের পাওনা প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের পাল্টা অভিযোগ

বোর্ডের এই আইনি পদক্ষেপের পর পালটা সরব হয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। তাঁদের দাবি, তাঁরা ইতিপূর্বেই বকেয়া পরিশোধ করেছেন। উল্টে লভ্যাংশের যে অংশ (Profit Share) ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পাওয়ার কথা ছিল, বোর্ড তা আটকে রেখেছে। মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, বোর্ড তাদের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দেয়নি। তবে পিসিবি এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রচারকারী সংস্থার বকেয়া ও রাওয়ালপিন্ডি সংযোগ

আর্থিক সঙ্কটের জাল আরও বিস্তৃত হয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থার পাওনা নিয়ে। পিসিবি-র দাবি, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ ওই সংস্থার কাছে তাদের প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকারী সংস্থাটি পিএসএল-এর রাওয়ালপিন্ডি দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এই বকেয়াকে কেন্দ্র করে রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে।

সব মিলিয়ে একদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বকেয়া এবং অন্যদিকে সম্প্রচারকারী সংস্থার বিপুল পাওনা— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট সার্কিটে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মহসিন নকভির বোর্ড এই সমস্যা কাটিয়ে কীভাবে লিগ পরিচালনা করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.