আইপিএলের প্রতিষ্ঠিত প্রথা ভেঙে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই প্লে-অফ এবং ফাইনালের ভেন্যু পরিবর্তন করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-র ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও, বুধবার বোর্ড জানিয়ে দিল— এ বারের মেগা ফাইনাল আয়োজিত হবে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। বোর্ডের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা (কেএসসিএ)।
প্রথা বনাম বর্তমান পরিস্থিতি
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, আগের বছরের চ্যাম্পিয়ন দলের ঘরের মাঠেই পরবর্তী মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল আয়োজিত হয়। সেই মোতাবেক বেঙ্গালুরুতে উদ্বোধনী ম্যাচ হলেও, শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে প্লে-অফের চারটি ম্যাচ থেকেই বঞ্চিত হলো চিন্নাস্বামী। বিসিসিআই-এর নতুন সূচি অনুযায়ী:
- ২৬ মে (প্রথম কোয়ালিফায়ার): ধর্মশালা (হিমাচল প্রদেশ)।
- ২৭ মে (এলিমিনেটর): মুল্লানপুর।
- ২৯ মে (দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার): মুল্লানপুর।
- ৩১ মে (ফাইনাল): আমদাবাদ (গুজরাত)।
কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার ক্ষোভ
কেএসসিএ-র সভাপতি তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার বেঙ্কটেশ প্রসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁরা বড় ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর কথায়, “চিন্নাস্বামীতে লিগ পর্যায়ের প্রতিটি ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়েছে। বোর্ডকে আমরা প্রস্তুতির বিষয়ে নিয়মিত আপডেট দিয়েছি। কোনো বিতর্ক বা সমস্যা ছাড়াই ম্যাচ আয়োজিত হওয়ার পরেও কেন ফাইনাল সরিয়ে নেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।”
বিসিসিআই-এর যুক্তি
বোর্ডের পক্ষ থেকে ম্যাচ সরানোর স্বপক্ষে দুটি প্রধান কারণ দর্শানো হয়েছে: ১. প্রোটোকল রক্ষা: বোর্ডের দাবি, ফাইনাল আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকল পূরণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অপারগতা প্রকাশ করেছে। ২. পরিচালনাগত সমস্যা: যাতায়াত এবং লজিস্টিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্লে-অফের ম্যাচগুলো মাত্র তিনটি নির্দিষ্ট মাঠে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমদাবাদ বনাম কলকাতা ও বেঙ্গালুরু: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
এই নিয়ে টানা তিন বছর আইপিএলের ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পেল আমদাবাদ। গত বছর কলকাতা নাইট রাইডার্স চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও ইডেনে ফাইনাল হয়নি। সেবার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল আমদাবাদে। অথচ ভৌগোলিক বিচারে কলকাতা থেকে আমদাবাদ পাকিস্তানের অনেক বেশি নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক আজও অমলিন। এ বছরও একই ছক দেখা গেল বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে।
আইপিএলের নক-আউট পর্বের এই সূচি বদল নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে দানা বাঁধছে নতুন জল্পনা। কেন বারবার হাই-প্রোফাইল ম্যাচগুলি আমদাবাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

