পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির ডানা ছাঁটল নবান্ন: কমিটির সদস্যদের ফিরতে হবে মূল ডিউটিতে

পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির ডানা ছাঁটল নবান্ন: কমিটির সদস্যদের ফিরতে হবে মূল ডিউটিতে

কলকাতা পুলিশের অন্দরে ব্যাপক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ‘ডেভেলপমেন্ট, ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড গ্রিভান্স রিড্রেসাল’ (DWGR) কমিটির সদস্যদের দাপটে রাশ টানল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা এক কড়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কমিটির সদস্যরা শুধুমাত্র কমিটির কাজ নিয়ে বসে থাকতে পারবেন না; তাঁদের প্রত্যেককে নিয়মিত সরকারি চাকরির দায়িত্ব ও ডিউটি পালন করতে হবে।

ইডির নজরে নিখোঁজ শান্তনু, জারি লুকআউট নোটিস

এই কমিটির প্রধান তথা কো-অর্ডিনেটর শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি লুকআউট নোটিস জারি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বালি পাচার এবং জমি দখল সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁকে একাধিকবার সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। কেন্দ্রীয় সংস্থার আশঙ্কা, শান্তনু দেশ ছাড়তে পারেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল তাঁর বালিগঞ্জের আবাসে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি, যদিও তখন থেকেই তিনি ‘নিখোঁজ’।

‘প্রতাপ’ কমতেই কড়া নির্দেশিকা

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (পরিকল্পনা এবং কল্যাণ) একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, ডিডব্লিউজিআর-এর সদস্যরা তাঁদের সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। পুলিশ সূত্রে খবর:

  • কমিটির সদস্যদের অবিলম্বে তাঁদের নিয়মিত সরকারি কাজে বহাল করতে হবে।
  • শুধুমাত্র ‘কমিটির কাজ’ করার অজুহাতে মূল ডিউটি থেকে দূরে থাকা যাবে না।
  • পুলিশের জন্য নির্দিষ্ট গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তার ওপর মৌখিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী তকমা ও সঞ্জয় রায় যোগ

কলকাতা পুলিশের এই ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্যদের ‘প্রভাব’ বাহিনীর অন্দরে সর্বজনবিদিত। নিচুতলার কর্মী থেকে উচ্চপদস্থ আধিকারিক— অনেকেই শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে সমঝে চলতেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। প্রসঙ্গত, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ও এই কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পুলিশের অন্দরে যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন।

সোনা পাপ্পু মামলা ও শান্তনু

দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের জমি দখল ও তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে শান্তনুর নাম জড়িয়েছে। এই মামলাতেই বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছে ইডি। গত মাসে শান্তনুর বাড়িতে অভিযানের পর তাঁর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মণীশকেও তলব করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে যান।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে পুলিশ মহলের একাংশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের ‘প্রভাবশালী’ তকমা ঝেড়ে ফেলে পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খলায় ফেরাতেই নবান্ন এই কড়া অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.