সতীপীঠ কঙ্কালীতলায় ‘বিধর্মী’ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ ও ব্যানার ঘিরে বিতর্ক

সতীপীঠ কঙ্কালীতলায় ‘বিধর্মী’ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ ও ব্যানার ঘিরে বিতর্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই বীরভূমের অন্যতম সতীপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দির চত্বরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলো। মঙ্গলবার মন্দিরে ‘বিধর্মীদের’ প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এদিন মন্দির প্রাঙ্গণ গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করার পাশাপাশি মূল ফটকে এই সংক্রান্ত একটি ব্যানারও টাঙিয়ে দেওয়া হয়।


প্রথা বদলের সুর ও ‘শুদ্ধিকরণ’

বোলপুর শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সতীপীঠটি কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। মঙ্গলবার সকালে বিজেপি কর্মীরা মন্দির চত্বর এবং পবিত্র কুণ্ডে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এরপর মন্দিরের গেটে একটি ব্যানার লাগানো হয়, যাতে লেখা রয়েছে: “জয় মা কঙ্কালী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ব্যতীত মন্দিরে বিধর্মীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।”

বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মন্দির পরিচালনার কোনও স্তরে বা ট্রাস্টি বোর্ডে যেন অন্য ধর্মাবলম্বী কাউকে রাখা না হয়।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দায়িত্বর রদবদল

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে এই মন্দিরের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ এবং বার্ষিক মেলা পরিচালনার নেপথ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী:

  • পূর্বতন ব্যবস্থা: এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপ-প্রধান মহম্মদ ঈহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখ মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে কঙ্কালীতলা অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূল নেতা আলেপ শেখ। এমনকি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখকেও বিভিন্ন সময় মন্দিরে পুজো দিতে বা মন্দির চত্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন করতে দেখা গিয়েছে।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই সেই পুরনো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ডাক দিল গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, হিন্দু মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দিকে দিকে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং রাজনৈতিক রদবদল শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করতেই কঙ্কালীতলা মন্দিরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মেরুকরণের বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে। মন্দির পরিচালনা কমিটি বা ট্রাস্টি বোর্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের রাখা নিয়ে বিজেপি যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সতীপীঠের এই প্রথা বদল নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.