নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলি জেলার গোঘাটের বর্মা এলাকা। বুধবার বিজেপির প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকাটি। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গাড়ি ও বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সংঘর্ষের জেরে গুরুতর আহত হয়েছেন আরামবাগের বিদায়ী সাংসদ মিতালী বাগ।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
এদিন গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার সমর্থনে বর্মা এলাকায় একটি প্রচার মিছিল বের হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মিছিল থেকে তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে কটু মন্তব্য ও গালিগালাজ করা হয়। তাদের আরও দাবি, বিজেপির প্রচারের গাড়িতে আগে থেকেই রড ও লাঠি মজুত করা ছিল এবং তা নিয়েই বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের ওপর চড়াও হন।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তৃণমূল কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায় এবং তাদের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
গুরুতর আহত সাংসদ মিতালী বাগ
সংঘর্ষ চলাকালীন আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগ গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বাঁশ ও রড দিয়ে তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ভাঙা কাচ সাংসদের শরীরে বিঁধে যাওয়ায় তিনি হাতে, পায়ে ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়েই হাসপাতালে মিতালী বাগকে দেখতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “সিপিএমের পুরনো হার্মাদরাই এখন জার্সি পাল্টে বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন:
- ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএমের সন্ত্রাসের কথা মাথায় রেখে মানুষকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
- সাংসদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন।
- আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া—এই চারটি আসনেই তৃণমূলকে জেতানোর ডাক দেন।
বিজেপির পালটা দাবি ও ওসির অপসারণের দাবি
তৃণমূলের অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার। তাঁর দাবি, সহানুভূতি কুড়োতে তৃণমূল নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভেঙেছে। এই ঘটনার জেরে গোঘাট থানার ওসির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ জানানোর কথা বলেছে তারা।
পুলিশের পদক্ষেপ
হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন:
- গোঘাটের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
- সাংসদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে বর্মা এলাকায়। ৪ মে ফলাফল এবং ২৯ তারিখের বাকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

