ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গেলেও রাজনৈতিক উত্তাপ বিন্দুমাত্র কমেনি। বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার ঘণ্টা অবস্থান ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। তার ঠিক পরদিনই, শুক্রবার দলীয় এক বৈঠকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ভবানীপুরের মাত্র একটি ওয়ার্ডেই ব্যবধান পাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বাকি সাতটি ওয়ার্ডের দাপটে জয়ী হবে বিজেপিই।
নির্বাচনী কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক
শুক্রবার বিকেলে ভবানীপুরের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের অরফানগঞ্জ রোডে নির্বাচনী কার্যালয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দলের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুভেন্দু এদিন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের বুথভিত্তিক ভোটের পরিসংখ্যান খুঁটিয়ে দেখেন।
জানা গেছে, ভবানীপুরে এবার ১ লক্ষ ৩৯ হাজারের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই নিজের জয়ের সমীকরণ সাজিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
৭৭ নম্বর ওয়ার্ড ও সংখ্যালঘু সমীকরণ
বৈঠক সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারী শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য জানতে চাননি। তাঁর দাবি, একমাত্র এই ওয়ার্ডেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ থেকে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধান বা লিড পেতে পারেন। এর পেছনে শুভেন্দুর যুক্তি হলো— এই ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের সংখ্যাধিক্য। তবে তাঁর বিশ্বাস, বাকি সাতটি ওয়ার্ডের সম্মিলিত ভোট এই ব্যবধানকে ছাপিয়ে যাবে এবং ভবানীপুরে পদ্ম শিবিরের জয় নিশ্চিত করবে।
স্ট্রংরুম বিতর্ক ও শুভেন্দুর তোপ
দলীয় বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী সোজা চলে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। গত রাতে সেখানে মমতার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
“স্ট্রংরুমের কাছে কোনও প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের চার ঘণ্টা বসে থাকা নির্বাচন কমিশনের হ্যান্ডবুকের বাইরে। আমি রিটার্নিং অফিসার বা ইন-চার্জের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ করছি না, তবে যা হয়েছে তা নিয়মবিরুদ্ধ।” — শুভেন্দু অধিকারী
গণনাকেন্দ্র নিয়ে সতর্কতা
আগামী ৪ মে ভোট গণনা। শুভেন্দু এদিন সাফ জানিয়েছেন, গণনার দিন তিনি নিজে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রতিটি মুহূর্তের ওপর নজর রাখবেন। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করতে নারাজ বিজেপি শিবির।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলাফল ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে মমতার স্ট্রংরুম পরিদর্শন, অন্যদিকে শুভেন্দুর পরিসংখ্যানগত আত্মবিশ্বাস— ফল প্রকাশের আগে সরগরম তিলোত্তমার রাজনীতি।

