পর্দা নামল ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দীর্ঘ প্রচারপর্বের। শেষ দিনে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো বিজেপির শীর্ষস্থানীয় প্রচারকরা ময়দানে থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রইল দক্ষিণ কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি।
দক্ষিণ কলকাতায় মোদীর প্রচার না হওয়া নিয়ে জল্পনা: মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বিজেপির অন্দরে পরিকল্পনা ছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতা এবং ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচার শেষ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও বিজেপির একাংশের দাবি, ব্রিগেডের সমাবেশটি দক্ষিণ কলকাতার অন্তর্গত, তবুও ভবানীপুর বা রাসবিহারীতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো বিশেষ রোডশো বা জনসভা না হওয়ায় কর্মীদের একাংশের মধ্যে হতাশা কাজ করেছে।
এই অনুপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “হিটলারের পরাজয়ের ঠিক আগের পরিস্থিতির মতোই মোদী-শাহরা বুঝতে পেরেছেন বাংলায় পরাজয় নিশ্চিত। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুকে এসে অপ্রস্তুত হওয়া থেকে বাঁচতেই মোদী সেখানে যাননি।”
বিজেপির কৌশলগত অবস্থান: তৃণমূলের এই আক্রমণের জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে না চাইলেও, রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশের মতে, বিষয়টি কৌশলগত। তাঁদের ব্যাখ্যা:
- বিকল্প কর্মসূচি: শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন অমিত শাহ স্বয়ং দক্ষিণ কলকাতায় রোডশো করেছিলেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সেখানে আবশ্যিক ছিল না।
- নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো: গত ২ এপ্রিল শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এলাকায় যে ধরনের উত্তেজনা এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা পুনরায় ঘটার ঝুঁকি নিতে চায়নি বিজেপি। অতীতে ২০১৯ সালে বিদ্যাসাগর কলেজের ঘটনার মতো কোনো বিড়ম্বনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপির অন্দরে জল্পনা।
প্রচারচিত্র ও সমাপনী: নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে সারা রাজ্যে মোট ১৯টি জনসভা ও রোডশো করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর রোডশো বাতিল করার খবর সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে জনসভার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ইতি টেনেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং উত্তরের পরিবর্তে উত্তর কলকাতায় রোডশো করার বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির এক বিশেষ দিক। এখন ৪ মে ভোটের ফলাফলই বলবে, তৃণমূলের ‘দুর্গ’ বা বিজেপির এই কৌশলগত প্রচার কোন পথে শেষ ফলাফল নির্ধারণ করে।

