ভোটের আগে বাইক চলাচলে কড়াকড়ি শিথিল করল কলকাতা হাইকোর্ট

ভোটের আগে বাইক চলাচলে কড়াকড়ি শিথিল করল কলকাতা হাইকোর্ট

ভোটের আগে বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধিনিষেধ আংশিক সংশোধন করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুক্রবার এক রায়ে বিচারপতি জানিয়েছেন, ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার খর্ব করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশন গত মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছিল যে, ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনও বাইক মিছিল করা যাবে না। পাশাপাশি, ওই সময়ে বাইকের পিছনে যাত্রী বসানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাও কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘‘আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নাগরিকদের এই ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।’’ তিনি আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও, তা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার করা উচিত। কোনও সাধারণ কার্যবিধি (SOP) বা আইনে বাইক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার কথা উল্লেখ নেই। তাই এ ধরনের সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত নয়।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় যা যা থাকছে:

  • ভোটের দিন: পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে।
  • ১২ ঘণ্টা আগে: ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রী নিয়ে বাইক চলাচল নিষিদ্ধ।
  • পেশাগত প্রয়োজনে ছাড়: অ্যাপ-নির্ভর বাইক চালক (যেমন র‌্যাপিডো), গিগ-কর্মী এবং অফিসগামী ব্যক্তিদের ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেও বাইক নিয়ে চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র (ID Card) দেখাতে হবে।
  • ভারসাম্য রক্ষা: বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন এবং বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শুধুমাত্র সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় সাধারণ নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, কমিশন তাদের আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, জরুরি প্রয়োজন বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বাইক ব্যবহারে ছাড় থাকবে এবং অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। যদিও সামগ্রিক বিধিনিষেধের কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে ভোটের আগে সাধারণ মানুষের বাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি মিলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.