ভোটের আবহে মদের দোকানে রেকর্ড ভিড়, স্টকের জোগান দিতে হিমশিম বিক্রেতারা

ভোটের আবহে মদের দোকানে রেকর্ড ভিড়, স্টকের জোগান দিতে হিমশিম বিক্রেতারা

বিধানসভা ভোটের আবহে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্যে পুনরায় মদের দোকান খোলার অনুমতি মিলতেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় অধিকাংশ দোকানের স্টক প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে দোকানগুলি খোলার অনুমতি পাওয়া যায়। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের বিধিনিষেধ থাকায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পুনরায় মদের দোকান বন্ধ থাকবে। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ফলে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই প্রয়োজনীয় মদ মজুত করার জন্য সুরাপ্রেমীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে:

  • চাহিদা তুঙ্গে: বিক্রেতাদের মতে, সাধারণ দিনের তুলনায় শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই কয়েক গুণ বেশি মদ বিক্রি হয়ে গিয়েছে। দেশি ও বিদেশি উভয় প্রকার মদের চাহিদাই আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের বড় অংশই কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে মদ মজুত করে রাখতে চাইছেন।
  • স্টকের সংকট: ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠাৎ ঘোষিত হওয়ায় আগে থেকে পর্যাপ্ত স্টক করার সুযোগ পাননি তাঁরা। তার ওপর অনলাইন অর্ডারের ক্ষেত্রেও জোগান পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক নামী ব্র্যান্ডের মদ এবং বিয়ার ইতিমধ্যেই ফুরিয়ে গিয়েছে।
  • দোকানিদের উদ্বেগ: শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, চাহিদার চাপে অনেক দোকানের স্টক নিঃশেষ হওয়ার পথে। চাঁদনি চকের এক দোকানের ম্যানেজার কালীপদ ছাটুই জানান, সকাল ১১টায় দোকান খোলার আগেই দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোলাপসিবল গেট বন্ধ রেখে বিক্রি চলছে। অনেক ক্রেতাই পছন্দের ব্র্যান্ড না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
  • অনলাইন পরিষেবা: অনলাইনেও মদের জোগান ফুরিয়ে আসছে। বহু ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে নতুন অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

উল্লেখ্য, শহরের রেস্তরাঁ বা পানশালাগুলিতেও এই কদিন মদ বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে রেস্তরাঁ থেকে মদ কিনে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সেখানে দোকানের মতো ভিড় সেভাবে নেই। সব মিলিয়ে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের এই বিপুল চাহিদা কী ভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন মদের দোকানের মালিকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.