ভোটের ওপর নজর রাখতে রাজ্যে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল: দ্বিতীয় দফায় ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোটের ওপর নজর রাখতে রাজ্যে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল: দ্বিতীয় দফায় ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন। কমিশনের আমন্ত্রণে বুধবার রাজ্যে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট পরিচালনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তারা তামিলনাড়ুতেও পর্যবেক্ষণ চালাবেন বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিন্যাস

কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকবেন বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার জেলাভিত্তিক বাহিনীর খতিয়ান: কমিশনের নোটিস অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় (৫০৭ কোম্পানি)। এছাড়া উল্লেখযোগ্য জেলাগুলির চিত্র নিম্নরূপ:

  • উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসত (১১২ কোম্পানি), বনগাঁ (৬২ কোম্পানি), বসিরহাট (১২৩ কোম্পানি), বিধাননগর (৫০ কোম্পানি) এবং ব্যারাকপুরে (১৬০ কোম্পানি) বাহিনী থাকছে।
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবন (১১৩ কোম্পানি), বারুইপুর (১৬১ কোম্পানি) এবং ডায়মন্ড হারবার (১৩৫ কোম্পানি)।
  • হাওড়া: হাওড়া গ্রামীণ (১৪৭ কোম্পানি) ও হাওড়া কমিশনারেট (১১০ কোম্পানি)।
  • নদিয়া: কৃষ্ণনগর (১৫৮ কোম্পানি) ও রানাঘাট (১২৭ কোম্পানি)।
  • হুগলি: চন্দননগর কমিশনারেট (৮৩ কোম্পানি) ও হুগলি গ্রামীণ (২৩৪ কোম্পানি)।
  • কলকাতা: রাজধানী কলকাতায় বুথ সংখ্যা ৫,১৭২, যেখানে ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

প্রথম দফার পরিস্থিতি

ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ভোটের জন্য ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী থাকছে মুর্শিদাবাদ জেলায় (৩১৬ কোম্পানি), যার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলাতেই ২৪০ কোম্পানি এবং জঙ্গিপুরে ৭৬ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোটের দিন প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাহিনীর এই বিপুল মোতায়েন ও আন্তর্জাতিক তদারকি ভোটকেন্দ্রে ভয়ের পরিবেশ দূর করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.