পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ধৃত ব্যবসায়ীর: জয় কামদারের ডায়েরি ও হোয়াটসঅ্যাপ ঘিরে ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি

পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ধৃত ব্যবসায়ীর: জয় কামদারের ডায়েরি ও হোয়াটসঅ্যাপ ঘিরে ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি

বেহালার ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিস্ফোরক অভিযোগ আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার আদালতে ইডি দাবি করেছে, জয়ের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এবং তাঁর ডায়েরি থেকে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও উপহার আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। আদালতের নির্দেশে জয়কে এক সপ্তাহের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ-ব্যবসায়ী ‘নেক্সাস’ ও জয়ের ডায়েরি

ইডির দাবি অনুযায়ী, ধৃত জয় কামদারের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, জয়ের ডায়েরিতে বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিকের নাম পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ‘শান্তনু স্যর’-এর উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও, শান্তনুর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মণীশের সঙ্গেও জয়ের নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে ইডি জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফার্ন রোডে শান্তনুর ব্যক্তিগত প্লটে একটি বেআইনি নির্মাণ কাজ করছিলেন জয়। এমনকি, এক পুলিশ আধিকারিকের বদলি প্রভাব বিস্তার করার মতো ক্ষমতাও জয় রাখতেন বলে অভিযোগ। তদন্তে পাওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে দেখা গেছে, উত্তর কলকাতার এক ওসি জয়কে ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করেছেন।

১১০০ কোটির বেআইনি লেনদেন ও ভুয়ো সংস্থার জাল

সান এন্টারপ্রাইজ়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ এনেছে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে:

  • ভুয়ো সংস্থা: জয়ের সঙ্গে যুক্ত ২৫টি ভুয়ো সংস্থার হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
  • বিপুল জমার উৎস: গত চার মাসে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা পড়েছে।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টাকা: ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে জয়ের ভুয়ো কোম্পানিতে ৪০ কোটি টাকা সরানোর প্রমাণ মিলেছে।

সোনা পাপ্পুর সঙ্গে আর্থিক যোগ

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত সোনা পাপ্পু এবং তাঁর স্ত্রীর সংস্থার সঙ্গে জয়ের দেড় কোটি টাকার লেনদেনের নথি পাওয়া গেছে। জয়ের সংস্থা থেকেই সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে পিস্তল ও গুলি কেনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকুলিয়া রোডে গুলিচালনার ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম জড়িয়েছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নামে ইডি।

ইডির এই দাবি ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য প্রশাসনে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো দুর্নীতির পর্দাফাঁস করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.