রাজনৈতিক প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক ভিন্ন ছবি দেখা গেল ঝাড়গ্রামে। রবিবার পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও ঘাটাল—এই চার জায়গায় টানা নির্বাচনী সভা শেষে ফেরার পথে ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড় এলাকায় কনভয় থামিয়ে ঝালমুড়ির স্বাদ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সাধারণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী
রবিবার ঝাড়গ্রামে জনসভা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন হেলিপ্যাডের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎই তাঁর কনভয় থামিয়ে রাস্তার ধারের একটি ঝালমুড়ির দোকানে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
দোকানদারের কাছে গিয়ে মোদী নিজে থেকেই বলেন, “ভাই, ঝালমুড়ি খাওয়ান তো।” পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে তিনি মুড়ি কিনতে চান। মুড়ি মাখার সময় বিক্রেতা তাঁকে প্রশ্ন করেন, “ঝাল খাবেন?” উত্তরে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জানান, “হ্যাঁ।” এরপর পেঁয়াজ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মোদী জানান, “পেঁয়াজও খাই।” সেই মুহূর্তের কথোপকথনে মজাদার ভঙ্গিতে তিনি মন্তব্য করেন, “স্রেফ দিমাগ নহি খাতে হ্যায়” (শুধু মাথা খাই না)।
জনমানসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ঝালমুড়ি খাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও তা খেলেন এবং আশেপাশের সাধারণ মানুষ ও কর্মী-সমর্থকদেরও তা দেন। ঝাড়গ্রামের রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মুড়ি পে চর্চা’ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন সাবলীল মেলামেশার ছবি মুহূর্তের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই ছবি ও মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছেন।
এদিন সকাল থেকে একে একে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও ঘাটালের সভায় যোগ দিয়ে তিনি বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়িয়েছেন। কিন্তু প্রচারের কঠিন সূচির মাঝেও এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা যেন প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ঘরোয়া সংযোগ তৈরি করে দিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনসভার ভিড়ের বাইরে বেরিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ ভোটারের কাছে প্রধানমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা বা জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে তোলার এক সুকৌশলী বার্তা বহন করে।

