রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এক ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স পেলে নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম তুলে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসআইআর (SIR) মামলায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সময়সীমা ও ভোটদানের শর্ত
সাধারণত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশে সেই নিয়মে পরিবর্তন এল। রায়ের মূল পয়েন্টগুলি হলো:
- প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল): রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রের যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ট্রাইবুনাল ২১ এপ্রিলের মধ্যে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
- দ্বিতীয় দফার ভোট (২৯ এপ্রিল): এই দফার ক্ষেত্রে আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।
- শর্ত: শুধুমাত্র ট্রাইবুনালে আবেদন করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট আবেদনটির পূর্ণ নিষ্পত্তি হতে হবে এবং ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র থাকতে হবে। তবে ট্রাইবুনাল যাদের আবেদন খারিজ করবে, তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন না।
বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ভোটারের সুযোগ
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) তালিকায় ছিলেন। বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার পর ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম মূল তালিকায় ফিরলেও, বাদ পড়েছিলেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এই বিপুল সংখ্যক ব্রাত্য ভোটার পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
আবেদনের পদ্ধতি ও ট্রাইবুনাল
ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শীর্ষ আদালত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ করার নির্দেশ দিয়েছে:
- আবেদন মাধ্যম: আবেদনকারীকে সশরীরে হাজির হতে হবে না। ‘ইসিআইনেট’ (ECINET) মোবাইল অ্যাপ, কমিশনের ওয়েবসাইট অথবা জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে।
- ট্রাইবুনালের গঠন: আবেদনকারীদের নথিপত্র খতিয়ে দেখতে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি ‘আপিল ট্রাইবুনাল’ গঠন করা হয়েছে। তাঁরাই দ্রুততার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে নাম ভোটার তালিকায় তোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষত, যাদের নাম কারিগরি কারণে বা নথির অভাবে বাদ গিয়েছিল, তাঁদের কাছে এটি শেষ মুহূর্তের বড় সুযোগ।

