বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত নন্দীগ্রামের রাজনীতি। বুধবার রেয়াপাড়ায় বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে কেবল ‘হিন্দুদের বিধায়ক’ বলে কখনও দাবি করেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, তিনি সর্বস্তরের মানুষের জন্যই কাজ করেছেন, যদিও নির্বাচনী পরিসংখ্যানে মুসলিম ভোটের প্রতিফলন তাঁর পক্ষে দেখা যায়নি।
ভোটের পাটিগণিত ও ধর্মীয় মেরুকরণ
এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ৬৪,০০০ মুসলিম ভোটের বিপরীতে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৪০০ ভোট। শুভেন্দুর কথায়:
“একটা শ্রেণির লোক রটায় আমি নাকি বলি আমি হিন্দুদের বিধায়ক। আমি কি কখনও তা বলেছি? আমি বলেছি, আমি মুসলিম ভোট পাই না। গতবার ঐক্যবদ্ধভাবে ৬৫ শতাংশ হিন্দু ভোটারের সমর্থন না পেলে আমি মাননীয়াকে হারাতে পারতাম না।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিধায়ক হিসেবে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনও ধর্মীয় পরিচয় বিচার করেননি। মহারাষ্ট্রে কর্মরত নন্দীগ্রামের ৩,০০০ মুসলিম শ্রমিকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাঁর ‘সব কা সাথ’ ভূমিকার সপক্ষে সওয়াল করেন।
অভিষেক বনাম শুভেন্দু: একই দিনে দুই কর্মসূচি
বুধবার নন্দীগ্রাম সাক্ষী থাকল এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক দ্বৈরথের। একদিকে যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সভা সারলেন, অন্যদিকে পাল্টা সভা করলেন শুভেন্দু। অভিষেক তাঁর বক্তব্যে শুভেন্দুকে নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন যে, অভিষেকের সভায় আসা কর্মীদের ন্যূনতম পানীয় জলটুকুও দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, এদিনের সভায় বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগদান করেন।
ভবানীপুর ও মোদীর নির্দেশ
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সভার শেষলগ্নে তিনি নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “মোদীজি আমাকে ভবানীপুরে পাঠিয়েছেন। আমি ভবানীপুরের দায়িত্ব নিলাম, আপনারা নন্দীগ্রামের দায়িত্ব নিন।”
উন্নয়নের খতিয়ান ও তৃণমূলকে আক্রমণ
শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে রেল প্রকল্প, জেলিংহামের বন্ধ কারখানা এবং সড়ক ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একইসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন:
- ২০২১ সালে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূরণ করেননি।
- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বহু ‘শহিদ পরিবার’কে সরকারি সাহায্য ও শংসাপত্র থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
- জল প্রকল্পের কাজ মাঝপথে আটকে রেখে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সরাসরি ভোট প্রার্থনা না করলেও, উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে কে বিধায়ক হওয়ার যোগ্য তা তাঁরাই বিচার করুন। পাশাপাশি মহিলাদের উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা করে তিনি জানান, আগামী ১ জুন থেকে ৩,০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে এবং ক্ষমতায় এলে আইসিডিএস ও আশাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

