মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পারদ চড়ল কয়েক গুণ। শনিবার ইজ়রায়েলের ডিমোনা শহরে অবস্থিত সেদেশের বৃহত্তম পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ‘শমিন পেরেজ় নেগেভ’-কে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। নাতান্জ় পরমাণু কেন্দ্রে ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার ‘বদলা’ নিতেই তেহরান এই পদক্ষেপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিমোনায় ক্ষয়ক্ষতি ও ভারতীয়দের নিরাপত্তা
ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি কমিউনিটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- আহত: হামলায় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
- ভারতীয় উদ্বেগ: ডিমোনা শহরটি ‘লিটল ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। তবে এই হামলায় কোনও ভারতীয় নাগরিক হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
- রক্ষা: অধিকাংশ বাসিন্দা সময়মতো ‘বম্ব শেল্টার’-এ আশ্রয় নেওয়ায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘৪৮ ঘণ্টা’ বনাম ইরানের পাল্টা হুমকি
হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আল্টিমেটাম দিয়ে জানিয়েছেন:
“আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়া হরমুজ় প্রণালী খুলে না দেয়, তবে আমেরিকার নিশানায় থাকবে ইরানের ছোট-বড় সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র। আঘাত শুরু হবে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।”
পাল্টা জবাবে তেহরানের হজরত খাতম আল আনবিয়া-র সদর দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমেরিকা হামলা চালালে তাঁরাও চুপ করে থাকবেন না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার পরিচালিত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলি ইরানের নিশানায় থাকবে।
ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বৃদ্ধি: শঙ্কিত ইউরোপ
শনিবার ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনা সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
- পাল্লার রহস্য: এত দিন মনে করা হতো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা ২,০০০ কিমি। কিন্তু ৪,০০০ কিমি দূরের দিয়েগো গার্সিয়াকে নিশানা করায় প্রমাণিত যে, ইরান গোপনে তাদের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়েছে।
- বিপদসীমা: বিশেষজ্ঞদের মতে, দিয়েগো গার্সিয়া যদি ইরানের নাগালে থাকে, তবে লন্ডন বা প্যারিসের মতো ইউরোপীয় শহরগুলিও এখন আর নিরাপদ নয়।
জলপথের রাজনীতি: ভারত ও বন্ধু দেশগুলিকে ছাড়
হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ইরান দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থা (IMO)-র সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের জাহাজের জন্য এই পথ খুলতে নারাজ তেহরান। তবে ভারত, চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং জাপানের জাহাজকে এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। ফ্রান্স, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথেও এই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর।

