পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার শুরু হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলি ফৌজের হামলার পাল্টায় গত ২ মার্চ থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ১৯ দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম একধাক্কায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
থমকে গেছে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি পরিবহণ করা হয়। কিন্তু গত ১৯ দিনের অবরোধের ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল কম তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর অর্থ হলো বিশ্ববাজারের সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে টানা চার দিনের সম্পূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ কার্যত ‘মুছে গিয়েছে’। বিশ্ববাজারে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ ২০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় চাহিদার তুলনায় জোগান কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিতে।
১৯৭৩-এর সঙ্কটের ছায়া: ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পরিকাঠামো
পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক তেল সঙ্কটের চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে সে সময় আরব দেশগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ করেছিল, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
- ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: শুধু অবরোধ নয়, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলোর তেল শোধনাগার, মজুতক্ষেত্র এবং রফতানি টার্মিনালগুলোতে ইরান ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: এই হামলার ফলে বহু দেশের জ্বালানি পরিকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী আজ খুলে দিলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো সারিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একনজরে ১৯ দিনের পরিসংখ্যান
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি |
| মূল্যবৃদ্ধি | ৫০% (আন্তর্জাতিক বাজারে) |
| সরবরাহ ঘাটতি | ৪০ কোটি ব্যারেল অশোধিত তেল |
| আমদানি হ্রাস | ২০% (বিশ্বব্যাপী) |
| অবরোধের সময়কাল | ২ মার্চ থেকে বর্তমান পর্যন্ত |
পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিতিশীলতা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

