কুসংস্কার বনাম আধুনিকতা: ‘চড়ক’ নিয়ে কলকাতায় পরিচালক সুদীপ্ত সেন, বিঁধলেন ধর্মীয় গোঁড়ামিকে

কুসংস্কার বনাম আধুনিকতা: ‘চড়ক’ নিয়ে কলকাতায় পরিচালক সুদীপ্ত সেন, বিঁধলেন ধর্মীয় গোঁড়ামিকে

‘দ্য কেরালা স্টোরি’ খ্যাত পরিচালক সুদীপ্ত সেন আবারও চর্চায়। তবে এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কেরালা নয়, বরং বাংলার প্রাচীন লোকউৎসব ‘চড়ক’। তাঁর নতুন ছবি ‘চড়ক’ মুক্তির প্রাক্কালে কলকাতায় এসে আনন্দবাজার অনলাইনের মুখোমুখি হয়ে ছবি, রাজনীতি এবং ধর্ম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই পরিচালক।

‘প্রোপাগান্ডা’ তকমা ও সুদীপ্ত সেনের আত্মপক্ষ সমর্থন

কেরালা স্টোরি মুক্তির পর থেকেই সুদীপ্ত সেনের গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছে ‘প্রোপাগান্ডা পরিচালক’-এর তকমা। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, “আমি কি পাগল যে কোনও দলের হয়ে কথা বলব? আমি মানুষের কথা বলি, বাকিরা রাজনৈতিক রং খোঁজেন। ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরোধিতা আমি করবই, কারণ এটা বিশ্বজুড়ে উদ্বাস্তু সমস্যার মূল কারণ। আমি প্রোপাগান্ডা ছবি বানাই না।”

‘চড়ক’ ছবির উপজীব্য: উৎসবের আড়ালে অন্ধকার

উত্তরবঙ্গের ঘরের ছেলে সুদীপ্ত সেন ছোটবেলা থেকেই চড়ক মেলা দেখে বড় হয়েছেন। তবে তাঁর এই ছবিতে উৎসবের আনন্দের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এর নেপথ্যে থাকা কুসংস্কার।

  • গল্পের প্রেক্ষাপট: চৈত্র সংক্রান্তিতে মহাদেব ও কালীর আবাহনের সময় প্রত্যন্ত গ্রামে তিনটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং ‘নরবলি’র মতো নৃশংস প্রথার দিকে আঙুল তুলেছেন পরিচালক।
  • বাস্তব সংযোগ: তিনি মনে করিয়ে দেন ২০২৪ সালে হাথরসের একটি স্কুলে ভালো ফলের আশায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে বলিদানের ঘটনা। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা বন্ধ করতেই তাঁর এই সিনেমা।

ধর্ম নিয়ে অবস্থান: ধর্মগন্ধী না ধর্মবিরোধী?

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুদীপ্ত জানান, তিনি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে সব পুজো হতো। কিন্তু বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্য কথা শিখিয়েছে। তাঁর কথায়, “ধর্ম মানুষকে শান্তি দিচ্ছে না। ইউরোপের চার্চগুলোতে এখন আর প্রার্থনা হয় না, মানুষ বুঝতে পেরেছে ধর্ম উন্নতির সহায়ক নয়। আমার ছবিতে বিজ্ঞানের নিরিখে এই কুপ্রথার প্রতিবাদ রয়েছে।”

কেন ‘কেরালা স্টোরি ২’-এ নেই সুদীপ্ত?

‘দ্য কেরালা স্টোরি’র ব্যাপক সাফল্যের পর সিক্যুয়েলে কেন তিনি নেই? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা কৌশলী পরিচালক। প্রযোজক বিপুল শাহের সঙ্গে মতান্তর নিয়ে মুখ না খুললেও তিনি জানান, “কেরালা স্টোরি ২-এর পটভূমি রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ। আমি সেই অঞ্চলের ইতিহাস বা গল্প জানি না। না জেনে, গবেষণা না করে আমি কাজ করি না। উল্টোদিকে চড়ক মেলা আমার নিজের চোখে দেখা, তাই এই ছবিতে আমি আছি।”

সহ-পরিচালক বিতর্ক ও টলিউড কানেকশন

ছবিটিতে শিলাদিত্য মৌলিকের নাম আড়ালে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে সুদীপ্ত জানান, তাঁদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। তাঁর নাম পরিচিত বলে বেশি প্রচার পাচ্ছে, কিন্তু শিলাদিত্যই সেটে পরিচালনার মূল দায়িত্ব সামলেছেন।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ছবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে সুদীপ্ত সেনের দাবি, তাঁর লড়াই কেবল ‘মানবতাবিরোধী’ শক্তির বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.