ইডেন গার্ডেন্সে অপরাজিত ৯৭ রানের পর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৪২ বলে ৮৯— পর পর দুই ম্যাচে ভারতের জয়ের কান্ডারি সঞ্জু স্যামসন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে সঞ্জুর চওড়া ব্যাটে ভর করেই ২৫৩ রানের পাহাড় গড়েছিল ভারত। কিন্তু ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার হাতে নিয়েও বিনয়ী কেরল তনয়। নিজের কৃতিত্বের চেয়েও জসপ্রীত বুমরাহর বোলিংকেই জয়ের আসল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন তিনি।
‘বুমরাহ লাখে একজন’
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্জু স্পষ্ট জানান, ২৫০ রান তুলেও ভারত হারের শঙ্কায় ছিল। তাঁর মতে, বুমরাহর নিয়ন্ত্রিত চার ওভারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সঞ্জু বলেন, “এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব জসপ্রীত বুমরাহর। যে ভাবে ও বল করল, তা এক কথায় অসাধারণ। এ রকম বোলার লাখে একজন হয়। আমার মতে, আজকের ম্যাচের সেরার মেডেলটা ওরই পাওয়া উচিত ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “২৫০ রান করেও আমরা প্রায় হেরে যাচ্ছিলাম। বুমরাহর ওই চার ওভার না থাকলে ফলাফল আমাদের বিপক্ষে যেতে পারত।” উল্লেখ্য, হাই-স্কোরিং ম্যাচে যেখানে বোলাররা নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন, সেখানে বুমরাহ ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। বিশেষ করে ১৭তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ের আশা কার্যত শেষ করে দেন তিনি।
ওয়াংখেড়ের পিচ ও রণকৌশল
ব্যাটিংয়ের সময় সঞ্জু ও ঈশান কিশন দ্রুত রান তোলার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সঞ্জুর ব্যাখ্যায়, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারি এবং ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যে কোনো রান তাড়া করা সম্ভব। তিনি বলেন, “অভিষেক আউট হওয়ার পর আমি আর ঈশান আলোচনা করছিলাম যে অন্তত ২৫০ রান না তুললে জেতা কঠিন হবে। ইংল্যান্ড যেভাবে তাড়া করছিল, তাতে আমাদের অনুমান সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।”
ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, প্রাধান্য দলের স্বার্থে
ইডেনের পর ওয়াংখেড়ে— পর পর দু’টি ম্যাচে শতরানের দোরগোড়া থেকে ফিরতে হয়েছে সঞ্জুকে। তবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই তাঁর। ভারতের এই ওপেনারের কথায়, “আমি কখনও শতরানের কথা ভাবিনি। টেস্ট বা ওয়ানডে-তে মাইলফলকের জন্য সময় নেওয়া যায়, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সেই সুযোগ নেই। নিজের শতরানের চেয়ে দলের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত রান যোগ করাই আমার লক্ষ্য ছিল। দলকে জেতাতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”
টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত। আগামী রবিবার আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামবেন সূর্যকুমার যাদবরা। সঞ্জু স্যামসনের এই বিধ্বংসী ফর্ম এবং বুমরাহর ‘ডেথ ওভার’ ম্যাজিক ফাইনালে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছে।

