প্রিমিয়ার লিগের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ‘৫৪ ফুটের চয়ন মাঠ’। এক মহিলার স্কুটার নিয়ে সরাসরি পিচের ওপর চলে আসা এবং খেলা বন্ধ করে দেওয়ার জেদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ঘটনার জেরে হওয়া ইটবৃষ্টি ও হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীসহ অনেকেই জখম হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
রবিবার দুর্গাপুরে একটি নকআউট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খেলা যখন উত্তেজনার তুঙ্গে, তখনই হঠাৎ এক মহিলা স্কুটার চালিয়ে ২২ গজের ওপর উঠে আসেন এবং মাঝমাঠে স্কুটার স্ট্যান্ড করিয়ে খেলা বন্ধ করে দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ভিড়ের কারণে তাঁর স্বামী চারচাকা গাড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না। এই দাবিতেই তিনি খেলা বন্ধ করার জন্য অনড় থাকেন।
রণক্ষেত্র খেলার মাঠ
টুর্নামেন্ট আয়োজক ও পুলিশ কর্মীরা ওই মহিলাকে পিচ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় প্রবল বিতণ্ডা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়:
- জনরোষ: দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকায় দর্শকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং তাঁরা মাঠ লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করেন।
- হাতাহাতি: মুহূর্তের মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
- আহত পুলিশ: উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে গিয়ে দুই মহিলা পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের গান্ধী মোড়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
“ওই মহিলার স্বামী গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় দর্শকদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে বচসা হয়েছিল। তিনি বাড়ি ফিরে গেলেও তাঁর স্ত্রী স্কুটার নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। পুলিশ এসেও প্রথমে তাঁকে সরাতে পারেনি, যার ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।” — রানা শিকদার, টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য।
প্রশাসনের ভূমিকা
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (দুর্গাপুর) সুবীর রায় জানিয়েছেন, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে একটি অত্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঠিক কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

