চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল রাশিয়া। সাধারণত কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য সুস্থ শরীরে টিকা দেওয়া হলেও, এবার রুশ বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এমন এক টিকা যা প্রয়োগ করা হবে আক্রান্ত রোগীর শরীরে। ‘এন্টেরোমিক্স’ (Enteromix) নামক এই প্রতিষেধকটি ক্যানসার নিরাময়ে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে দাবি করছে রাশিয়ার ‘ফেডারেল মেডিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সি’।
‘প্রতিরোধ’ নয়, ‘নিরাময়’: কীভাবে কাজ করবে এই টিকা?
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘এন্টেরোমিক্স’ কোনো সাধারণ প্রতিরোধমূলক টিকা নয়, এটি একটি ‘থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন’। কোভিড বা এইচপিভি ভ্যাকসিনের মতো এটি সুস্থ মানুষকে দেওয়া হবে না। বরং শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর এটি ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (Immune System) সক্রিয় করে তোলে যাতে শরীর নিজেই ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কোষগুলিকে চিনে নিয়ে ধ্বংস করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও গঠন
এই টিকাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘মেসেঞ্জার আরএনএ’ (mRNA) প্রযুক্তি।
- ভাইরাসের ভূমিকা: চারটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসের নমুনা গবেষণাগারে বিশুদ্ধ করে এই টিকা তৈরি করা হয়েছে। এই ভাইরাসগুলি মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়, কিন্তু ক্যানসার কোষ ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর।
- প্রক্রিয়া: টিকাটি শরীরে প্রবেশের পর বি-লিম্ফোসাইট কোষগুলিকে উদ্দীপিত করে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এর ফলে টিউমার কোষের বৃদ্ধি থমকে যায়।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও কার্যকারিতা
প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালে ৫০ থেকে ১০০ জন ক্যানসার রোগীর শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে:
- টিউমার নিয়ন্ত্রণ: আক্রান্তদের শরীরে টিউমার কোষের বিস্তার বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে এই টিকা।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।
- প্রয়োগের ক্ষেত্র: চিকিৎসকদের দাবি, এটি ত্বকের বিপজ্জনক ক্যানসার ‘মেলানোমা’ ছাড়াও অগ্ন্যাশয়, কিডনি, কোলন ও ফুসফুসের ক্যানসার নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা নেবে।
কবে আসবে বাজারে?
রাশিয়ার তৈরি এই টিকাটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। এর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রক এখনই কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না করলেও, ট্রায়াল সফল হলে খুব শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে ক্যানসার চিকিৎসায় এই ‘ম্যাজিক ড্রাগ’ বাজারজাত করা হতে পারে।

