ভোটের দিন প্রচারের চেয়ে ‘ভোট করানো’তে বেশি গুরুত্ব অমিত শাহের, কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি বিজেপির চাণক্যের

ভোটের দিন প্রচারের চেয়ে ‘ভোট করানো’তে বেশি গুরুত্ব অমিত শাহের, কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি বিজেপির চাণক্যের

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনটি রীতিমতো কৌশলী পরিকল্পনায় সাজিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা ও রোড শো করছেন, অন্যদিকে তখন অমিত শাহ বেছে নিলেন ‘ভোট করানো’-র গুরুদায়িত্ব। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিজেপির নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে বসে সরাসরি ভোট প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালালেন তিনি।

দফতরে বসেই নজরদারি: বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার আগেই বিধাননগরের সেক্টর ফাইভে বিজেপির রাজ্য দফতরে পৌঁছে যান শাহ। সেখানে ‘ওয়ার রুম’ এবং ‘কন্ট্রোল রুম’ থেকে ১৫২টি কেন্দ্রের প্রতিটির খুঁটিনাটি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ভোটের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে কমিশন বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের প্রতিনিয়ত বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরাসরি কোনো প্রশাসনিক কাজে না জড়ালেও, দলের অন্দরে ভোটের দিন ‘চাণক্য’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়।

পরিকল্পিত কর্মসূচি: সাধারণত ভোটগ্রহণের দিন প্রচারের হিড়িক থাকে তুঙ্গে, কিন্তু শাহ নিজের প্রচারের কর্মসূচিগুলো ভেবেচিন্তেই কিছুটা দেরিতে শুরু করেন। তাঁর মতে, প্রথম দফার ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে করানোই ছিল অগ্রাধিকার। বিজেপির এই নির্বাচনী কৌশলের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত শাহ গুজরাট থেকে উত্তরপ্রদেশ—সর্বত্রই এই ‘ভোট করানোর’ দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। রাজ্যেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ যখন খবর আসে যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, তখনই তিনি দলীয় দফতর থেকে নির্ধারিত জনসভা ও রোড শোয়ের পথে রওনা হন।

রাজনৈতিক হুঙ্কার: বলাগড় ও পুরশুড়ার জনসভা এবং মধ্যমগ্রামের রোড শো থেকে শাহ কার্যত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনী ফলের ইঙ্গিত দেন। প্রতিটি সভায় তাঁর কণ্ঠে ছিল তৃণমূলের পতনের পূর্বাভাস। তিনি বলেন, “প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝে নিয়েছেন, দিদি সাফ হয়ে গিয়েছেন।”

পুরশুড়া থেকে ফেরার পথে কলকাতার সূর্যাস্তের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি লেখেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি এবং গুন্ডারাজের সূর্য অস্ত গিয়েছে।” মূলত, ভোটগ্রহণের দিন প্রচারের থেকেও দলের ভোট ব্যাংক সুরক্ষিত রাখা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেই শাহ তাঁর এই কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

ভোটের দিন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এমন নিবিড় নজরদারি প্রমাণ করে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে পদ্ম শিবির। এখন দেখার বিষয়, শাহের এই ‘ভোট করানো’র অঙ্ক নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.