নিহত আমির নাসিরজ়াদা ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে সে দেশের সামরিক বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ছিলেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ পাকপৌর ২০২৫ সালে রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এই দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যু ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: হামলা ও পাল্টা হামলা
গত কয়েক দিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম ইজ়রায়েল-আমেরিকা অক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার সেই উত্তেজনা সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়:
- যৌথ হামলা: আমেরিকা ও ইজ়রায়েল একযোগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
- ইরানের পাল্টা জবাব: তেহরানও ইজ়রায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
- নিশানা শীর্ষ নেতৃত্ব: হামলা শুরুর পরেই ইজ়রায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের প্রথম সারির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা।
খামেনেই-র নিরাপত্তা নিয়ে ধোঁয়াশা
ইজ়রায়েলি নিশানায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান রয়েছেন— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তেহরানে যেখানে হামলা হয়েছে, তার খুব কাছেই খামেনেই-র দফতর অবস্থিত। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে, খামেনেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন এবং হামলার শুরুতেই তাঁকে একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয় | তথ্য |
| নিহত (দাবি অনুযায়ী) | আমির নাসিরজ়াদা (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) ও মোহাম্মদ পাকপৌর (কমান্ডার)। |
| সূত্র | রয়টার্স (ইজ়রায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্র মারফত)। |
| হামলাকারী | ইজ়রায়েল ও আমেরিকা। |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | ইজ়রায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। |
| বিমান চলাচল | এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো সহ একাধিক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। |
পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই দুবাইয়ের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ভারত সহ একাধিক দেশ বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

