ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয় এক মহত্তম একাদশী, যে দিনে আমলকী বৃক্ষ পূজিত হয় ভগবান বিষ্ণুর প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়ে। ২০২৬ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারী এই দিনটি পালিত হচ্ছে। এই ব্রত এবং একাদশী পালন করলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ হয়; পাপ থেকে মুক্তি পাওয়াও যায়। অর্থাৎ পরিবেশ রক্ষার অন্যতম একটি পর্ব বৃক্ষ রোপণ, সংরক্ষণ এবং পরিচর্যাকে কতটা গুরুত্ব হিন্দুধর্মে দেওয়া হয়েছে, তারই একটি মহত্তম প্রকাশ।
এই ব্রত সম্পর্কিত একটি কাহিনি রয়েছে। এক গ্রামে একটি লোক বাস করত, যে জীবনে বহু পাপ কাজ করেছিল। মৃত্যুর পূর্বে সে একটি আমলকী গাছের নিচে বসে ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ করতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পরে, ভগবান বিষ্ণু তার সামনে এলেন এবং বললেন, সে জীবনে বহু পাপকাজ করা সত্ত্বেও, যেহেতু আমলকী গাছের নিচে বসে বিষ্ণুর নাম জপ করেছে, তাই সে মুক্তি পাবে। যেই আমলকী গাছের পূজা করে, সেই মুক্তি পায়। তার কারণ আমলকী গাছ বিষ্ণুর অতীব প্রিয় গাছ।
আমলকী ফল দিয়ে গুরুকে দক্ষিণা দেওয়ার একটি প্রাচীন প্রথা আছে। তা গুরু দক্ষিণার জন্য একটি উপযুক্ত উপহার। ভগবান দত্তাত্রেয়ের শিষ্য পরশুরাম তার গুরুকে দক্ষিণা দেওয়ার জন্য আমলকী ফল এনেছিলেন। ভগবান দত্তাত্রেয়র আমলকী ফল প্রিয় বস্তু। গুরুদেবের প্রতি সম্মান ও ভক্তি প্রকাশের একটি উপায়, গুরুকে আমলকী উৎসর্গ করা।
আমলকী বা Aonla-র উদ্ভিদবিদ্যাগত নাম Emblica officinalis G. এটি Euphorbiaceae পরিবারের একটি সদস্য, যার ক্রোমোজম সংখ্যা: ২n= ১৮. এই ফলটির উৎপত্তি ভারতবর্ষ বলা যায়। সুনির্দিষ্টভাবে এটি ক্রান্তীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদি ফসল, বিশেষত মধ্য ও দক্ষিণ ভারত। এই গাছটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং চীনে উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করে। এই ফল ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি ফল, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন হয়।
কল্যাণ চক্রবর্তী/

