বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বড়সড় পরিবর্তন আনল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। বুধবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে মহম্মদ মোস্তাকুর রহমানকে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র নয় দিনের মাথায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল বর্তমান সরকার।
কর্মীবিক্ষোভ ও স্বৈরাচারের অভিযোগ
গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। কর্মীদের অভিযোগ ছিল, তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ‘স্বৈরাচারী’ কায়দায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন এবং সাধারণ কর্মীদের দাবিদাওয়াকে তোয়াক্কা করছিলেন না। এমনকি মনসুর পদত্যাগ না করলে বৃহত্তর কর্মবিরতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মনসুর অবশ্য দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি ‘কুচক্রী মহল’ ষড়যন্ত্র করছে এবং তিনি পদ ছাড়ছেন না। তবে এই বক্তব্যের কিছু পরেই তাঁকে ব্যাংক ছাড়তে হয়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর এক উপদেষ্টাকে এক প্রকার জোরপূর্বক ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর অপসারণের ঘোষণা আসে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস আমলের একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্তাকে সরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনসুরের অপসারণ তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকেও সরিয়ে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে সেই পদে বসানো হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: ‘পরিবর্তন স্বাভাবিক’
এই রদবদল প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এটি সরকারের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “নতুন সরকারের কিছু অগ্রাধিকার এবং সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই পরিবর্তন করা হবে। প্রয়োজনে আরও রদবদল হবে, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

