ভারত ও ইজরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে তেল আভিভ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই সফরে প্রতিরক্ষা, কৃষি, সন্ত্রাস দমন এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একাধিক দ্বিপাক্ষিক মউ (MoU) সই হতে পারে। বিশেষত, প্রায় ৬৮০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা) মূল্যের অস্ত্র ক্রয় এবং যৌথ উৎপাদন সংক্রান্ত সমঝোতা এই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে।
নজরে ‘ডেভিডস স্লিং’ ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ইজরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ইজরায়েলি সংস্থা ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’ এবং মার্কিন সংস্থা ‘রেথিয়ন’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ডেভিডস স্লিং’ (David’s Sling) এবং ‘অ্যারো’ (Arrow) সিস্টেম নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
- অ্যারো-২ ও অ্যারো-৩: এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাল্লা প্রায় ২০০ কিলোমিটার। এটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।
- আয়রন বিম (Iron Beam): এটি একটি ৩০ কিলোওয়াটের লেজার রশ্মি নির্ভর অস্ত্র। প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই লেজার প্রযুক্তিতে হামলা ঠেকানোর খরচ অনেক কম।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও বালাকোটের অভিজ্ঞতা
সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলোতে ইজরায়েলি অস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বালাকোটে জঙ্গি শিবির ধ্বংসে ব্যবহৃত স্পাইস বোমা (Spice Bombs) থেকে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যবহৃত ‘হেরন টিবি’ ড্রোন এবং ‘ফ্যালকন’ অ্যাওয়াকস (AWACS)—সবক্ষেত্রেই ভারতের ইজরায়েল-নির্ভরতা স্পষ্ট।
আসন্ন সফরে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে:
- আত্মঘাতী ড্রোন: শত্রুঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ধ্বংস করার ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোনের যৌথ উৎপাদন।
- স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্র: শত্রুর রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে থেকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): বারাক-৮ (Barak-8) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি।

