প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে বস্তি উচ্ছেদ: ৭১৭টি পরিবারকে ঘর খালি করার নোটিস কেন্দ্রের

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে বস্তি উচ্ছেদ: ৭১৭টি পরিবারকে ঘর খালি করার নোটিস কেন্দ্রের

দেশের সবথেকে উচ্চ নিরাপত্তা বলয় তথা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘লোককল্যাণ মার্গ’-এর (পূর্বতন রেসকোর্স রোড) সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার তিনটি বস্তি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে সেখানকার ৭১৭টি পরিবারকে ঘর খালি করার নির্দেশ দিয়ে চূড়ান্ত নোটিস জারি করা হয়েছে।

নোটিসের আওতায় তিন ক্যাম্প

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেসকোর্স রোড এলাকার তিনটি প্রধান জনবসতিকে এই উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়েছে। এগুলি হলো: ১. ভাই রাম ক্যাম্প ২. মসজিদ ক্যাম্প ৩. ডিআইডি ক্যাম্প

নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাড়ি খালি না করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঘটনাচক্রে, দিল্লিতে বিজেপির ক্ষমতা দখলের বর্ষপূর্তির আবহে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও দূরত্ব-বিতর্ক

সরকার কেবল উচ্ছেদ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেছে। ‘দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড’ (DUSIB)-এর তত্ত্বাবধানে সাভদা ঘেভরা এলাকায় নতুন ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে। ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বাসিন্দাদের সেখানে চলে যেতে বলা হয়েছে।

তবে এই পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘিরে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কারণ:

  • দূরত্ব: বর্তমান অবস্থান (রেসকোর্স রোড) থেকে পুনর্বাসন কলোনির (সাভদা ঘেভরা) দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।
  • জীবিকা ও শিক্ষা: এত দূরে চলে গেলে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কর্মসংস্থান এবং শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পুনর্বাসন প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশ জনবসতিহীন করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, ৬ মার্চের সময়সীমার মধ্যে বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় সরে যান নাকি বিষয়টি নতুন কোনো আইনি বা সামাজিক লড়াইয়ের দিকে মোড় নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.