সোমবার দুপুরে একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তথাগত রায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপিকে প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে: ১. দুর্নীতি: রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে ছড়িয়ে পড়া আর্থিক অনিয়ম। ২. আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: জননিরাপত্তার সংকট। ৩. বেকারত্ব: কর্মসংস্থানের অভাব।
তিনি তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রথম দুটি সমস্যা অর্থাৎ দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসেরই সৃষ্টি। অন্যদিকে, বেকারত্ব সমস্যার সমাধান বর্তমান শাসক দল কোনোদিন করতে পারবে না বলেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
নেটনাগরিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
তথাগত রায়ের এই বার্তার নিচে ৫০টিরও বেশি প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে, যেখানে জনমতের দ্বিধাবিভক্ত রূপটি স্পষ্ট।
- উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও বাঙালি সত্তার লড়াই: বিশ্বনাথ লাহিড়ি নামে এক জনৈক ব্যক্তি তথাগত রায়ের বক্তব্যের সমর্থনে বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন বাঙালির সর্বনাশ ডেকে আনবে। তিনি কমিউনিস্ট এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে কট্টরপন্থী মনোভাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
- বিজেপির ব্যর্থতার দিকে আঙুল: অন্যদিকে, সুবাস ঘোষের মতো অনেক নেটনাগরিক এই প্রচার কৌশলের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের পাল্টা দাবি, বিজেপির শাসনকালেই দেশে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি এবং টাকার মূল্য তলানিতে ঠেকেছে। মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির নিরিখে বিজেপিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাঁরা দাবি করেছেন যে, এই কৌশলে বঙ্গে বিজেপির ‘চিঁড়ে ভিজবে না’।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ
নাজিরাবাদের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডকে বিরোধীরা যখন প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইছে, ঠিক সেই সময় তথাগত রায়ের এই দীর্ঘমেয়াদী ‘মৌলিক ইস্যু’র তত্ত্ব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলেরই এক প্রবীণ নেতার এই পরামর্শ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কতটা গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের প্রচারের গতিপ্রকৃতি।

